মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » সেনা অভ্যুত্থানের নামে আড়াই হাজার সামরিক সদস্যকে হত্যা করেছে জিয়া



সেনা অভ্যুত্থানের নামে আড়াই হাজার সামরিক সদস্যকে হত্যা করেছে জিয়া


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.04.2021

জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সামরিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে কথিত বিচারের নামে সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের ফাঁসি কার্যকর এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী দুই মাসে ১ হাজার ৪’শ সৈনিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ শতাধিক সৈনিককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঢাকায় সামরিক বাহিনীর একটি ক্ষুদ্রাংশের অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সেনাশাসক জিয়াউর রহমানের নির্দেশে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। সেই ট্রাইব্যুনালে কথিত বিচারের নামে সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি দেওয়া হয়- বাংলা নিউজ ব্যাংকের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন সামরিক ষড়যন্ত্রে নিহত হওয়া এক সেনা কর্মকর্তার ভাই হাফিজ।

এদিকে, ১৯৭৬ সালে এই রকম এক বিচারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত কর্নেল আবু তাহেরের বিচার অবৈধ বলে ইতোমধ্যে হাই কোর্ট থেকে রায় এসেছে।

ইতিহাস বলেছে, ১৯৭৫ সালের অগাস্ট ট্রাজেডির পর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসা জিয়া সেনাপ্রধান হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ক্ষমতা দখল করেন। তার পরের বছর তিনি রাষ্ট্রপতির পদও দখল করেন।

হাফিজ বলেন, ওই ঘটনার পর মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এটা স্পষ্ট যে, বিচারের আওতার বাইরে অনেককে মরতে হয়েছে। এমন কী দেশবাসীকে জানানোও হয়নি ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে কাদের এবং কতজনকে সুস্পষ্ট কী অপরাধে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

সেই ট্রাইব্যুনালের বিচারে ঢাকায় ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এবং কুমিল্লা ২৯ অক্টোবর থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ফাঁসিগুলো কার্যকর করা হয়।

জিয়ার ঘোষিত ‘মার্শাল ল’ ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারের নামে প্রহসনে এক একজন সৈনিকের জীবন-মরণের সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাইব্যুনাল প্রধানরা এক মিনিটেরও কম সময় নিতেন- যাদের অনেকেরই আর্মি অ্যাক্ট অনুসারে বিচারক হবার যোগ্যতাও ছিল না- যোগ করেন নিহত সেনা কর্মকর্তার ভাই।

১৯৮৭ সালে বিমান বাহিনী থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ইতিহাস’ গ্রন্থের এক অধ্যায়ে বলা হয়, ঐ ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৫৬১ জন বিমানসেনা প্রাণ হারায়। ঐ পুস্তিকা পরবর্তীকালে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৯৭৮ সালের ৫ মার্চ লন্ডন টাইমস-এর এক প্রতিবেদন বলা হয়, ঐ ঘটনায় সামরিক বাহিনীর ৮ শতাধিক সদস্যের সাজা হয় এবং প্রায় ৬০০ জনকে ফাঁসির মাধ্যমে কিংবা ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়, যার অধিকাংশই বিমানবাহিনীতে ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ রচিত ‘মিলিটারি রোল অ্যান্ড দি মিথ অফ ডেমোক্রেসি’ গ্রন্থে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ১৯৭৭-এর ৩০ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবর যথাক্রমে বগুড়া ও ঢাকায় ব্যর্থ সেনা-অভ্যুত্থানের পর গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার করে সেনা ও বিমানবাহিনীর শত শত ননকমিশন্ড অফিসার ও সৈনিককে ফাঁসিতে ঝোলানে হয়। ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ অক্টোবর রাজশাহী কারাগারে এদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

জিয়ার শাসনামলে একদিকে অভ্যুত্থানের নামে, বিদ্রোহের নামে হাজার হাজার সৈন্য ও সৈনিক অফিসার নিধন করেন, অন্যদিকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও শক্ত হাতে দাবিয়ে রাখেন। তার শাসনামলে আড়াই হাজারেরও বেশি সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।

জিয়ার আমলে বিচারের নামে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচারে কমিশন গঠনের দাবি তুলে তাহেরের ভাই আনোয়ার হোসেন বলেছিলেন, ওই সময় বেছে বেছে মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল।

তারও আগে আরেক রায়ে হাই কোর্ট বলেছিল, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা গ্রহণ ছিল সংবিধান-বহির্ভূত ও বেআইনি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি