মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » বহিষ্কার ও পদত্যাগের ভিড়ে অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি



বহিষ্কার ও পদত্যাগের ভিড়ে অস্তিত্ব সংকটে বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.04.2021

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনায় আসা মির্জা আব্বাসকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিককালে এমন প্রশ্ন আবার নতুন করে সামনে এসেছে। কারণ আব্বাসের বক্তব্যের জন্য ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দলের সঙ্গে তার কিছুটা সংঘাত তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি জবাব দিয়েছেন এবং তাকে বহিষ্কারের আশঙ্কাও কম বলেই মনে করা হচ্ছে। এ সত্ত্বেও আব্বাসের সমর্থকরা চেষ্টা করছেন, ঘটনা যাতে আরো সংঘাতের দিকে না যায় এবং তিনি যাতে নমনীয় থাকেন। কেউ কেউ উদাহরণ দিয়ে এমনটাও বলছেন যে ঘটনা যাতে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বা অন্য অনেকের মতো না হয়।

বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা হলো, বি. চৌধুরী চলে যাওয়ায় তার নিজেরও লাভ হয়নি, বিএনপিরও লাভ হয়নি। বরং আজকে নেতৃত্বের যে অবস্থা, তাতে তিনি থাকলে বিএনপিরই লাভ হতো। একইভাবে মির্জা আব্বাস দল ছেড়ে চলে গেলে না লাভ হবে তার নিজের, না বিএনপির। কারণ আর্থিকভাবে ধনী হলেও বিএনপির পতাকাতলে না থাকলে সমাজে আব্বাসের প্রভাব যেমন কমে যাবে, তেমনি বিএনপিও একজন ত্যাগী ও বড় নেতাকে হারাবে বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, ‘বিএনপি ছেড়ে আসায় আমার কোনো লোকসান হয়নি, বরং লাভ হয়েছে। কারণ আমার নীতি ঠিক আছে। মানুষ এখনো আমাকে ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে।’ বিকল্পধারার এই সভাপতি বলেন, ‘আমার দল বড় কি ছোট সেটি বড় কথা নয়। নীতি হচ্ছে বড় এবং আমি জিয়াউর রহমানের নীতি থেকে দূরে সরে যাইনি। বরং বিএনপি জিয়ার নীতিতে আছে কি না সেটি নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশ্য মনে করেন, ‘বিএনপি হচ্ছে বিশাল এক বহতা নদী। জিয়াউর রহমানের পরিবার এবং দেশের জনগণই হচ্ছে এর শক্তি। ফলে এই দলে অন্য কেউ অনিবার্য নয়।’ তিনি বলেন, বিএনপি নেতা নির্ভর দল নয়। তা ছাড়া বিএনপি সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না। আবার ধর্মীয় মূল্যবোধকে মূল্য দেয়। ফলে ব্যাপক জনসমর্থনের ওপর নির্ভর করেই এই দল টিকে আছে এবং থাকবে।’

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, বি চৌধুরী, অলি আহমদ ও মান্নান ভূঁইয়ারা বিএনপিতে না থাকায় তাদের নিজেদেরও ক্ষতি হয়েছে, বিএনপিরও ক্ষতি হয়েছে। কারণ তারা তিনজনই বিএনপিতে ভাঙন ধরিয়েছেন কিংবা বিএনপিকে দুর্বল করেছেন। বর্তমানে বিএনপিতে চলছে শুধু একে অন্যকে দোষারোপ করা। বিএনপির বর্তমান দুর্দশার জন্য শুধু মাত্র বিএনপি নিজে দায়ী। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আগামী ২০ বছরেও বিএনপি হয়তো ক্ষমতায় আসতে পারবে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি