মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » মামুনুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য!



মামুনুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.04.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে রিমান্ডে নেওয়ার পর বের হয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এবার মামুনুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার মোবাইল ফোন জব্দ করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত তার লুকানো ফোনটি উদ্ধার করতে পেরেছে পুলিশ। মোহাম্মদপুরের মাদ্রাসার একটি কক্ষ থেকে সেটি উদ্ধারের পর ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এরই মধ্যে তার মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটিং লিস্ট থেকে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সূত্র থেকে তার কাছে লাখ লাখ টাকা আসার তথ্য মিলেছে।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, মামুনুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ কে এম হাফিজ আক্তার আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের অর্থের যোগানদাতা হিসেবে ৩১৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ভারতের বাবরি মসজিদ, কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের শিক্ষা ও হেফাজতে ইসলামের নাম করে মামুনুল মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোটি কোটি টাকা এনেছেন। সেসব টাকা বিভিন্ন উগ্রবাদী নাশকতামূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের সদ্যবিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীর ছেলের বিয়েতেই সাবেক আমির আল্লামা শফীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা হয়। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে মামুনুল হক, জুনায়েদ আল হাবিবসহ কয়েকজন নেতার বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে আল্লামা শফীকে সরিয়ে বাবুনগরীকে আমির করার পরিকল্পনা হয়।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া হেফাজত নেতাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানের ‘তেহেরিক-ই-লাব্বায়িক’ নামের সংগঠনের আদলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে গঠন করে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো এ দেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তারা।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মামুনুলের সাথে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এ কারণে নাশকতায় তার উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামুনুল ভারতবিরোধী মতাদর্শীর লোকজন এবং সরকারবিরোধী দলের লোকজনকে একসঙ্গে করে নাশকতার পরিকল্পনা করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান বানচাল করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। এ জন্য ভারতে মুসলমানদের নির্যাতনে মোদি জড়িত উল্লেখ করে ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে আসেন। এই ইস্যুতে তিনি বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের নিয়ে ‘বড় মুভমেন্ট’ করার পরিকল্পনা করেন। ২০১৩ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারের পতন ঘটিয়ে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে বলে ধারণা ছিল তার।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, কোনভাবেই মাফ পাবেন না মামুনুল। তার সকল অপকর্মের তথ্য একে একে উদ্ধার করা হচ্ছে। এরপর সব প্রমাণ জোগাড় হলে তার বিচার করা হবে। দেশে তাণ্ডবের সাথে যুক্ত হেফাজতের কোন নেতাই ছাড় পাবে না বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি