মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » চিকিৎসা না দিয়ে খালেদার সাথে ছবি তোলায় ব্যস্ত বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা!



চিকিৎসা না দিয়ে খালেদার সাথে ছবি তোলায় ব্যস্ত বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.04.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা না দিয়ে তার সাথে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা। জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত খালেদা জিয়ার অবস্থা কিছুটা খারাপ হওয়ার গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ম্যাডামের স্বাস্থ্য কিছুটা খারাপ হয়ে পড়ায় তাকে বাসা থেকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কিন্তু যেভাবে সবাই ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এতে ম্যাডামের চিকিৎসা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছি। বিএনপির চিকিৎসকদের বলব, ম্যাডাম সুস্থ হলে পরেও ছবি তোলা যাবে। আগে তার চিকিৎসা দরকার।

জানা গেছে, ১১ এপ্রিল ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ১৫ এপ্রিল সিটি স্ক্যান করাতে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন পরীক্ষায় তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর বাসায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু সংক্রমণ বাড়লে গতকাল আবারও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে দলীয় ডাক্তারদের ছবি তোলার আবদার রাখতে গিয়ে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ঠিকমত হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জাহিদ হোসেন।

খালেদার চিকিৎসক ডা. শাহাবউদ্দিন তালুকদার বলেন, গতকাল রাতে ম্যডামকে হাসপাতালে আনার পর ড্যাবের নেতাকর্মীদের ছবি তোলার হিড়িক পড়ে। বিষয়টি খুবই অস্বস্তিকর। দলের লোক হওয়ায় কিছু বললেও শুনছেন না। কিন্তু ম্যাডামের এখন ভালো চিকিৎসা দরকার। এরকম ভিড় করলে চিকিৎসা কীভাবে হবে? ছাড়াও আরও কয়েকজন চিকিৎসক এ দলে যুক্ত হয়েছেন বলেও জানান জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রয়োজন পড়লে আরও দুদিন হাসপাতালে থাকতে পারেন খালেদা জিয়া।

উল্লেখ্য,ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন। সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পদপ্রতাশীরাই খালেদার সাথে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এসব নেতারা ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করে জানাচ্ছেন, কে খালেদার কতটা কাছের। ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, পদের জন্য ম্যাডামের সাথে ছবি তোলা হয়ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ছবি না থাকলে ম্যাডামের কাছের লোক হিসেবে পরে পরিচয় দেওয়া কঠিন হবে। কিন্তু এখন অন্তত ম্যাডামের ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে এই কাজ না করাই ভালো। এখন সবাইকে অনুরোধ করব, ছবি না তুলে ম্যাডামের চিকিৎসায় মনোযোগ দিতে

এদিকে ড্যাবের নেতাকর্মীদের এমন আচরণে বিরক্ত বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নেতা কানন বড়ুয়া বিশাল ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ম্যাডামের এমন শারীরিক অবস্থায়ও ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আপনারা। আপনারা কি ম্যাডামের সঠিক চিকিৎসা চান না? আপনাদের মত নেতাদের জন্যই দলের এই অবস্থা। ম্যাডাম যখন জেলে যান তখন আপনাদের কাউকে রাজপথে পাওয়া যায়নি, আজকে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন?

 

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি