মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » জান্নাত আরার ধর্ষণ মামলা: মৃত্যুদণ্ড না হলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়াতে পারবেন না মামুনুল হক



জান্নাত আরার ধর্ষণ মামলা: মৃত্যুদণ্ড না হলেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়াতে পারবেন না মামুনুল হক


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.04.2021

নিজস্ব প্রতিবেদক: হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা। ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় মামলাটি করেন তিনি। সোনারগাঁ থানা পুলিশ সূত্র জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেছেন জান্নাত আরা। মামলার নম্বর ৩০। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এই মামলায় কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু স্বেচ্ছায় জান্নাত আরা এই মামলা করেছেন, সুতরাং মামুনুলের বাঁচার সুযোগ নেই। রায়ে মৃত্যুদণ্ড না হলেও কমপক্ষে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। এটা এড়ানোর কোন সুযোগ পাবেন না মামুনুল হক।

বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯ (১) অনুযায়ী, যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।

আইনটির ব্যাখ্যায় হয়েছে, যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।

মামলায় জান্নাত আরা ঝর্ণা বলেছেন, ‘বিয়ের প্রলোভন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে আমাকে নিয়ে যান।’ তিনি আরও বলেন ‘মামুনুল হক দীর্ঘদিন ধরেই আমার সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। আমি রাষ্ট্রের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।’

মামলাটি নিয়ে জানতে চাইলে আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারা অনুযায়ী, ষোল বছরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে যৌন সঙ্গম করলে তা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে। এখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে, যদি প্রতারণা করে সম্মতি আদায় করা হয় তবে তা ধর্ষণ হবে। বিভিন্ন সময় বিয়ের কথা বললেও মামুনুল হক জান্নাত আরাকে বিয়ে করেননি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ভোগ করেছেন মামুনুল, যা প্রতারণা। সুতরাং আইন অনুযায়ী তার মৃতুদণ্ড না হলেও যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড হবে। এর চেয়ে কম সাজার বিধান এই আইনে নেই। সুতরাং মামুনুলের বাঁচার কোন উপায় নেই।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি