মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১



বিএনপিতে গণপদত্যাগের শঙ্কা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
01.05.2021

নিউজ ডেস্ক: নানা ইস্যুতে বিএনপিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মির্জা আব্বাসকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া, বিএনপির রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি, খালেদা জিয়া অসুস্থতা নিয়ে বিএনপিকে অন্ধকারে রাখা, বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল ইত্যাদি নিয়ে বিএনপির মধ্যে মতবিরোধ, অস্বস্তি এবং অনাস্থা চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। করোনায় দলটি লন্ডভন্ড হয়ে গেলেও দলের মধ্যে নানারকম অবিশ্বাস এবং কোন্দল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তবে এটি প্রকাশ্য হয়েছে মির্জা আব্বাসের কারণ দর্শানোর নোটিশের মধ্য দিয়ে। আর এ সমস্ত বিরোধ কোন্দলের মধ্যে বিএনপিতে গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র আভাস দিয়েছে। মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে যদি শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, এমনকি তাকে যদি সতর্ক করা হয় তাহলে মির্জা আব্বাস দল থেকে পদত্যাগ করবেন। মির্জা আব্বাস পদত্যাগ করলে তার ধারায় দলের মধ্যে একটি অংশ গণপদত্যাগ করতে পারে, এমন আভাস পাওয়া গেছে।
মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মহিলা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীতে এবং ছাত্রদলের মধ্যে মির্জা আব্বাসের প্রভাব রয়েছে বলে বিএনপি`র সূত্রে জানা যায়।
তাছাড়া স্থায়ী কমিটির অন্তত দু`জন সদস্য মির্জা আব্বাসকে এভাবে কারণ দর্শানো নোটিশের তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছেন। কাজেই মির্জা আব্বাসের ইস্যুতে বিএনপি`র মধ্যে একটা বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হতে পারে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল মনে করছেন। তবে বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, শুধু মির্জা আব্বাস নয়, সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো ইস্যুতেই বিএনপি`র মধ্যে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিএনপির সঙ্গে ২০ দলের সম্পর্ক কি হবে, জামাতের সঙ্গে বিএনপি থাকবে কি থাকবে না, এ নিয়ে বিএনপি`র মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য।
সাম্প্রতিক সময়ে ২০ দলীয় জোটের একটি বৈঠক হলে সে ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। আবার বিএনপির মধ্যে একটি প্রভাবশালী অংশ জামায়াত এবং হেফাজতকে নিয়ে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনের পক্ষে।
আর এরকম যদি পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলে থাকবেন না, এমন কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে থাকা না থাকা, হেফাজতের সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি নিয়ে বিএনপিতে টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে। বিশেষ করে বিএনপি`র কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে, হেফাজতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক কি তা পরিষ্কার হওয়া উচিৎ। হেফাজতের কারণে এখন বিএনপির ওপর অভিযান পরিচালিত হতে পারে। এতে বিএনপি`র বহু নেতাকর্মীর গ্রেফতার হতে পারে। এটি বিএনপি`র জন্য আরেকটি আঘাত হিসেবে তারা মনে করছেন।
যদিও বিএনপির শীর্ষ নেতারা একাধিকবার বলছেন যে, তাদের সাথে হেফাজতের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু হেফাজতে যে সমস্ত নেতৃবৃন্দকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জবানিতে পাওয়া যাচ্ছে যে, বিএনপি`র বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে। ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিএনপি`র থাকা উচিত কি উচিত না, এই পুরোনাে বিরোধ বিএনপিতে নতুন করে দেখা দিয়েছে এবং এই নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান দাবি করছেন বিএনপি`র অনেক নেতাই।
বেগম খালেদা জিয়া গত কিছুদিন ধরেই অসুস্থ। তিনি এখন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি নেতাদেরকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কোনো কিছু জানেন না। বেগম খালেদা জিয়ার পারিবারিক সূত্রগুলো বলছেন, রাজনৈতিক বাতাবরণের বাইরে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি দেখতে চাইছেন। এটির যদি রাজনীতিকরণ করা হয় তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য খারাপ হবে।
বেগম জিয়া পরিবারের একজন সদস্য বলেছেন যে, এভারকেয়ার চিকিৎসার পর বেগম জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে যদি তার চিকিৎসার বিষয়টি থাকে, তাহলে সরকার তাকে অনুমতি নাও দিতে পারে। আর এই সমস্ত  বাস্তবতায় বেগম জিয়ার পরিবার তার চিকিৎসার বিষয়টিকে আলাদা করে দেখছেন। এটি বিএনপি`র মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং বিএনপি মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপি থেকে পৃথক করার জন্য তার পরিবারের দায়ী।
যদি বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিএনপি`র সম্পর্ক ছেদ হয় তাহলে বিএনপিতে একটা বড় ধরনের গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এই সব অস্থিরতার শেষ কোথায় যাবে সেটি নির্ভর করবে করোনা পরিস্থিতির পর বিএনপি আসলে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে কিনা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে কিভাবে তার ওপর।


এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি