মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » নতুন করে তাণ্ডবলীলা চালাতে ছক সাজাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম!



নতুন করে তাণ্ডবলীলা চালাতে ছক সাজাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
01.05.2021

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক গ্রেফতার হচ্ছেন হেফাজতের নেতারা। হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে। হেফাজত রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেও বিলুপ্ত হয়ে যাবে এমন কথা হেফাজতের অনেক নেতাই বলছেন। আর এই অবস্থায় হেফাজত সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার শক্তি পাচ্ছে না এমনটি মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটাও মনে করছেন যে, এখন যেভাবে হেফাজতের নেতাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং হেফাজত এখন যেভাবে কোণঠাসা হয়ে আছে এটিই শেষ নয়। এর পরেও অনেক কিছু ঘটতে পারে। হেফাজত এত সহজে সবকিছু ছেড়ে দেবে এমনটি তারা মনে করছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, সরকার হেফাজতের নেতাদেরকে আটকের ক্ষেত্রে খুব সঠিক সময়টি বেছে নিয়েছেন।

রমজান মাসে হেফাজত কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে পারে না। আর এই সময় কওমি মাদ্রাসাগুলোর বার্ষিক পরীক্ষা থাকে, তারা বন্ধ থাকে এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়িতে বা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে। এই সময়টাতে হেফাজত চাইলেই আন্দোলন করতে পারবে না। আর এরকম এরকম পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ঈদের পর হেফাজত পুনরায় সংঘটিত হতে পারে এবং সংঘটিত হয় সরকারকে পাল্টা আঘাত করতে পারে। এই পাল্টা আঘাত করার সম্ভাবনার কথা যারা বলছে তারা মনে করছেন যে, হেফাজত একা নয়। হেফাজত কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দাবি করা হলেও এর পেছনের রাজনৈতিক কলকাঠি আছে এবং এই রাজনৈতিক কলকাঠি নাড়ানো হয় জন্যই হেফাজত মাঝেমধ্যেই সহিংস হয়ে ওঠে, সরকারের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে। যারা নেপথ্যে কলকাঠি নাড়াচ্ছেন তারাই হেফাজতকে এত সহজে দমতে দেবেন না।

তারাই হেফাজতকে এত সহজে রাজনীতির মাঠ ছাড়তে দেবেন না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে যে, রমজান মাস শেষ হলে ঈদের পর পর সরকার আর দীর্ঘদিন লকডাউন দিয়ে রাখতে পারবে না। কোনো না কোনো পর্যায়ে লকডাউন তুলতেই হবে। কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা যাবে না। কারণ কওসি মাদ্রাসা থাকেন এতিম, দুস্থ শিক্ষার্থীরা। এদের অনেকের হোস্টেল ছাড়া অন্যত্র থাকার সুবিধা নেই।

আর এরকম বাস্তবতাতেই ঈদের পর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে নতুন করে উত্তেজিত করা হতে পারে। তাছাড়া হেফাজতের পেছনে এখন জামায়াতে ইসলাম, খেলাফতে মজলিস, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মতো ২০ দলীয় জোটের শরিকরা আছেন এবং তারা এখন প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাল্টা আঘাত হানার।

একাধিক সূত্র বলছে, হেফাজতের সঙ্গে জঙ্গিদের একটি নেটওয়ার্কও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী। আর এ কারণেই হেফাজত ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং হাটাহাজারীতে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিলো। এখন হেফাজত নিষ্ক্রিয় হলে বা হেফাজতের বিরুদ্ধে অ্যাকশন হলে হেফাজতের অনেক উগ্রবাদী কর্মী এবং জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কাজেই এখন যেটা আপাত মনে হচ্ছে যে, সবকিছু শান্তিপূর্ণ, সরকার অবাধে হেফাজতের সব নেতাকে গ্রেফতার করছেন এবং হেফাজতও লেজ গুটিয়ে নিয়েছে, সেই দৃশ্যপট ঈদের পরে বদলেও যেতে পারে। হেফাজত হয়তো সামনের দিনগুলোতে একটা মরন কামড় দেওয়ার চেষ্টা করবে।

সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, তারাও এরকম একটি আশঙ্কা করছেন এবং এজন্য সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। তাই হেফাজতের নেতাদেরকে গ্রেফতর করার পরেই হেফাজতের আন্দোলন দমে গেছে বলে যারা মনে করছেন তারা পুরোটা সঠিক নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন যে, হেফাজতের শেষ দেখার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি