মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » খালেদার অসুস্থতা, হেফাজত ও আব্বাস ইস্যুতে লণ্ডভণ্ড বিএনপি



খালেদার অসুস্থতা, হেফাজত ও আব্বাস ইস্যুতে লণ্ডভণ্ড বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
01.05.2021

বিভিন্ন ইস্যুতে ভঙ্গুর অবস্থা বিএনপির। মির্জা আব্বাসকে কারণ দর্শানো নোটিশ, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে দলকে অন্ধকারে রাখা, দলটির অন্যতম মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক রাখবে কি না কিংবা ২০ দলের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক কি হবে? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিএনপির মধ্যে মতবিরোধ, অনাস্থা-অস্বস্তি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করেছে। দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য।

বেগম খালেদা জিয়া গত কিছুদিন ধরেই অসুস্থ। তিনি এখন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা, চিকিৎসা নিয়ে দলের নেতাদেরকে অন্ধকারে রাখা হচ্ছে। এমনকি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কোনো কিছু জানেন না।

বেগম খালেদা জিয়ার পারিবার চাইছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি রাজনৈতিক বাতাবরণের বাইরে রাখতে। চিকিৎসা নিয়ে যদি রাজনীতি করা হয় তাহলে বেগম জিয়ার জন্য বিষয়টি খুব খারাপ হবে।

জিয়া পরিবারের একজন সদস্য বলেছেন, এভারকেয়ার চিকিৎসার পর বেগম জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে যদি তার চিকিৎসার বিষয়টি থাকে তাহলে সরকার তাকে অনুমতি নাও দিতে পারে। আর এই সমস্ত বাস্তবতায় বেগম জিয়ার পরিবার তার চিকিৎসার বিষয়টিকে আলাদা করে দেখছেন।

এ বিষয়ে খালেদা পরিবার এবং বিএনপি’র মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বিএনপি মনে করছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপি থেকে পৃথক করার জন্য তার পরিবারের দায়ী। আর দলের দাবি, বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বিএনপি`র সম্পর্ক ছেদ হলে বিএনপিতে একটা বড় ধরনের গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে বিএনপির অন্যতম মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগত সম্পর্ক রাখবে কিনা, ২০ দলের সঙ্গে সম্পর্ক কি হবে- এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ২০ দলীয় জোটের একটি বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

আবার বিএনপির মধ্যে একটি প্রভাবশালী অংশ জামায়াত এবং হেফাজতকে নিয়ে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনের পক্ষে। আর এরকম যদি পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলে থাকবেন না, এমন কথা সাফ জানিয়েছেন বৈঠকে।

জামায়াতের সঙ্গে থাকা না থাকা, হেফাজতের সাথে সম্পর্ক ইত্যাদি নিয়ে বিএনপিতে টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে। বিশেষ করে বিএনপি’র কোনো কোনো নেতা মনে করছেন, হেফাজতের সাথে বিএনপির সম্পর্ক কি তা পরিষ্কার হওয়া উচিৎ। হেফাজতের কারণে এখন বিএনপির ওপর অভিযান পরিচালিত হতে পারে। এতে বিএনপি’র বহু নেতাকর্মী গ্রেফতার হতে পারে। এটি বিএনপি’র জন্য আরেকটি আঘাত হিসেবে তারা মনে করছেন।

যদিও বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা একাধিকবার বলছেন, তাদের সাথে হেফাজতের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু হেফাজতের যে সমস্ত নেতৃবৃন্দকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জবানিতে পাওয়া গেছে- বিএনপি’র বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। এমনকি অর্থ লেনদেনও রয়েছে।

ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিএনপি’র থাকা উচিত কি উচিত না? এই পুরনো বিরোধ বিএনপিতে নতুন করে দেখা দিয়েছে এবং এই নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান দাবি করছেন বিএনপি’র অনেক নেতাই। বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে মির্জা আব্বাসের কারণ দর্শানোর নোটিশের মধ্য দিয়ে। সঙ্গে করোনা প্রকোপে একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে নিয়ম-শৃঙ্খলা, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। এছাড়াও দলের মধ্যে নানারকম অবিশ্বাস এবং কোন্দল তো রয়েছেই।

মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে যদি শেষ পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাহলে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করবেন। মির্জা আব্বাস পদত্যাগ করলে তার ধারায় দলের মধ্যে একটি অংশ গণপদত্যাগ করতে পারে, এমন আভাস পাওয়া গেছে।

মহিলা দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীতে এবং ছাত্রদলের মধ্যে মির্জা আব্বাসের প্রভাব রয়েছে, যা বিএনপি’র সবাই জানে। তাছাড়া স্থায়ী কমিটির অন্তত দু’জন সদস্য মির্জা আব্বাসকে এভাবে কারণ দর্শানো নোটিশের তীব্র আপত্তি প্রকাশ করেছেন। কাজেই মির্জা আব্বাসের ইস্যুতে বিএনপি’র মধ্যে একটা বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হতে পারে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।

তবে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, শুধু মির্জা আব্বাস নয়, সাম্প্রতিক সময়ে অনেকগুলো ইস্যুতেই বিএনপি’র মধ্যে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। আর এ সমস্ত বিরোধ-কোন্দলের মধ্যে বিএনপি’তে গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্র আভাস দিয়েছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি