মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » সিন্ডিকেটের আধিপত্যে ঢাবি ছাত্রদল কাবু



সিন্ডিকেটের আধিপত্যে ঢাবি ছাত্রদল কাবু


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.05.2021

নিউজ ডেস্ক: ক্ষোভ, অসন্তোষ আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বেচ্ছাচারিতা, সমন্বয়হীনতা আর সিন্ডিকেটের আধিপত্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে প্রায়ই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়াচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাবি ছাত্রদলে অস্থিরতার মূলে রয়েছে তারেক রহমানের অপরাজনীতির দীক্ষা। সবকিছু বোঝার পরও এসব সমস্যা সমাধান না করে ‘অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দেয়ার নীতি’ অনুসরণ করছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও।

গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের ৯১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তখন থেকেই এটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নামে পদবঞ্চিতরা। এমনকি এ নিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন এলাকায় একাধিকবার সংঘর্ষেও জড়ায় ছাত্রদলের পদপ্রাপ্ত ও বঞ্চিত গ্রুপ।

২০১৯ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ নয় বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ পায় ছাত্রদল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও শিক্ষার্থী-বিচ্ছিন্নতার কারণে ডাকসু নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলকে। ডাকসু নির্বাচনের পর ঝাঁক বেঁধে ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া শুরু করে ছাত্রদল। তবে নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা।

গত বছরের অক্টোবরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পর জমে থাকা ‘চাপা ক্ষোভ’ ক্রমশ প্রকাশ পেতে থাকে। সেই ক্ষোভ ব্যাপকভাবে প্রকাশ হয় ছাত্রদলের ঢাবি শাখা কমিটি ঘোষণার পর।

অভিযোগ উঠে, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির ৯১ সদস্যের মধ্যে প্রধান দুজনসহ ৪৭ জন একই সিন্ডিকেটের। এরপর থেকেই মধুর ক্যান্টিনের সামনে, চন্দ্রিমা উদ্যানে ও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে একাধিক বার ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ একটি অংশ।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন এলাকায় দুইবার সংঘর্ষে জড়ায় তারা। এতে নেতৃত্বে থাকা ও বঞ্চিত পক্ষের একাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

এমনকি বিভিন্ন ইস্যুতে ছাত্রদলের মিছিল-সমাবেশ চলাকালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের সঙ্গে সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের অনুসারী বলে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমানের একাধিকবার ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

এছাড়া আমানের হাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের ঢাবি কমিটির কয়েকজন নেতা মারধরের শিকার হন। এমনকি টিএসসিতেও ছাত্রদলের দু’পক্ষের মারামারি হয়।

জানা যায়, ঢাবি কমিটির আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমান ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর অনুসারী। আর ৯১ সদস্য বিশিষ্ট ঢাবি কমিটির ৪৭টি পদই বাগিয়ে নেয় এ সিন্ডিকেট। এজন্য ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতারা বাদ পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ঢাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ ছিল তিন মাস। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর কমিটি ঘোষণার দিন হিসেবে তা মার্চেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। তবে এই কমিটি তাদের গঠনতান্ত্রিক মেয়াদের শেষ দিন সম্মেলন ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি হলে কমিটি ঘোষণা করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পর নতুন কমিটির জন্য সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি