মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১



বিব্রত আব্বাস!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.05.2021

নিউজ ডেস্ক: ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো নিজ দলের ভেতরেই বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাস। গত কয়েকদিন ধরেই দলটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনায় মির্জা আব্বাসের বক্তব্য নিয়ে বিএনপির ভেতরে চলছে নানা বিতর্ক।

দলের তৃণমূল নেতাদের কাছে ‘বিশ্বস্ত ও ত্যাগী’ বলে পরিচিত আব্বাসের দেয়া বক্তব্যকে প্রায় সবাই তার স্বভাবসুলভ সরল মনের বক্তব্য বলে মনে করলেও, কেউ কেউ সেটাকে দলের জন্য আত্মঘাতী মনে করছেন। এ কারণেই তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে দল থেকে চিঠি দেয়া হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লোক মারফত সেই চিঠির জবাবও দিয়েছেন তিনি।

মির্জা আব্বাস জানান, চিঠির জবাব তিনি দলের মহাসচিবের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তবে চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চিঠিতে মির্জা আব্বাস বলেন, ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলীকে নিয়ে বক্তব্য দেয়ার পরদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবুও দল তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে। তার বক্তব্য আসলে কেউ অনুধাবন করেনি, যা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।

চিঠিতে তিনি বলেন, আমি কখনো বিএনপি ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কাজ করেনি। দলের দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছি নিরলসভাবে। গত ৪৩ বছরে আমার সামনে বিএনপি নিয়ে কেউ বিরূপ মন্তব্যের সাহস পায়নি। কেউ করলে তার কড়া প্রতিবাদও করেছি। তারপরও ৪৩ বছর পর এই প্রথম একটি বক্তব্য নিয়ে দলের ভেতরে আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবীরা বলেন, এটাই বিএনপির আসল চরিত্র। বিবেকের তাড়নায় মির্জা আব্বাস সত্য ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করলেন। দলকে দালাল মুক্ত করতে একটা উদ্যোগ নেয়ার আহ্বানও জানালেন কিন্তু উল্টো তাকেই তার বক্তব্যের জন্য শোকজ করা হলো। দলের মধ্যে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হলো। এটাই বিএনপির রাজনীতি। যারা দলের ভালো চায় তাদেরকেই কোণঠাসা করে রাখা হয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি