মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে বিভ্রান্তিতে বিএনপি!



আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে বিভ্রান্তিতে বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
04.05.2021

গয়েশ্বর ও নজরুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক: ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকায় বিএনপি আন্দোলন করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর এ কারণেই বেগম জিয়ার মুক্তি আদায়, সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তোলার পূর্বে আন্দোলনে আগে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিএনপি।

জানা গেছে, গণতন্ত্রমনা, ধর্মনিরপেক্ষ ও বাম রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি প্রগতিশীল চিন্তার মানুষকেও এ প্রক্রিয়ায় রাখতে চাইছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

একটি সূত্র বলছে, দলের বাইরে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে খ্যাতিমান ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিকসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সরকারবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে চায় বিএনপি। রাজপথের মিছিলে, পত্রিকার কলামে, টিভির টকশোতে দলীয় সহকর্মীদের নিয়ে সরকারবিরোধী ব্যতিক্রমী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি। দলটির নেতারা মনে করেন, সরকারের বিরুদ্ধে সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও ব্যক্তি এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে পারলে বিএনপির সহযোগী দেশি-বিদেশি সব শক্তিকে পাশে পাওয়া যাবে। জনগণের মধ্যে ভিন্ন একটি ধারণা তৈরি হবে, নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। প্রশাসন একতরফাভাবে বিএনপির ওপর চড়াও হতে পারবে না। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে এই পরিকল্পনাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বিএনপি।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বর্তমানে যে জোয়ার চলছে, সে জোয়ারে সরকারের বিরুদ্ধে বলার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু এরপরেও কিছু দল রয়েছে যারা বিএনপির মতো সরকারের পতন চায়। তাই এসব দলকে নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কথার ইচ্ছা আছে। এ অবস্থায় একজন আরেকজনের ভুলত্রুটি না খুঁজে অভিন্ন দাবিতে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে।

বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা মনে করেন, দেশে দুই ধরণের রাজনীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একটি হচ্ছে- ক্ষমতার রাজনীতি, অন্যটি ভোটের রাজনীতি। ক্ষমতার রাজনীতিতে মূল বাধা জামায়াতসহ ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো। বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকলেও জামায়াতসহ আরও কয়েকটি কারণে দলটি আটকে আছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, ক্ষমতাসীনরা মুখে যা-ই বলুক, বিএনপি-জামায়াত জোট ভেঙে যাক তা চাইবে না। কারণ বিএনপি-জামায়াত ব্র্যান্ডিং ক্ষমতাসীনদেরই বড় সুবিধা এনে দেয়। পশ্চিমা বিশ্ব জামায়াত বা ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনীতি পছন্দ করে না। এ অবস্থায় বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে পথ চলার চিন্তা করছে। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির জোট কোন পর্যায় পর্যন্ত থাকবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে দলটি। ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত বড় ফ্যাক্টর। সে ক্ষেত্রে সমঝোতার ভিত্তিতে জামায়াতকে আড়াল করার চিন্তা করছে বিএনপি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ঐক্যফ্রন্ট আবার সক্রিয় করা হোক তা দু’একজন ছাড়া দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যান্য নেতারা চান না। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি নেতাদের আপত্তিও রয়েছে। কারণ ড. কামাল বিএনপির অনেক বিষয়ই মানতে চান না। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন। গণফোরামের নেতারা সভা-সমাবেশে বারবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উচ্চারণ করেন। কিন্তু জিয়াউর রহমান নিয়ে তাদের ইতিবাচক কোনো বক্তব্য থাকে না, যা উপস্থিত নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই মানতে পারে না।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি