মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » বিদেশে চিকিৎসা: মুখোমুখি বিএনপি-খালেদার পরিবার



বিদেশে চিকিৎসা: মুখোমুখি বিএনপি-খালেদার পরিবার


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
04.05.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। গতকাল সোমবার ভোর থেকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় বিকেলে তাকে হাসপাতালের কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। এখন পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের নেতা এফ এম সিদ্দিকী বলেন, গতকালের চেয়ে আজকে ম্যাডামের শরীর খারাপ। তাকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। এখন তার চিকিৎসা নিয়ে দলের নেতারা এক সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন তো পরিবারের সদস্যরা আরেক কথা বলছেন। এরকম হলে তো ম্যাডামের চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যাঘাত তৈরি হবে। সবার মনে রাখতে হবে, ম্যাডামের বয়স ৭৫ বছর। এই বয়সে করোনায় আক্রান্ত হলে নিরাময় পাওয়া কঠিন। আগে থেকেই ম্যাডামের অন্যান্য জটিল শারীরিক সমস্যা তো আছেই। এই অবস্থায় তার চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের এবং বিএনপির নেতাদের মতভেদ না থাকাই ভালো।

জানা গেছে, গতকাল খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপরই তাকে হাসপাতালের কেবিন থেকে সিসিইউয়ে স্থানান্তর করা হয়। এই খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর এবং বোন সেলিমা ইসলাম। তারা এসে চিকিৎসকদের কাছে খালেদা জিয়ার শরীরের খোঁজ-খবর নেন। খালেদার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাদের দুইজনকে জানান, ম্যাডামের অবস্থা বেশি ভালো নয়, অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। তাকে বিদেশে নিতে পারলে ভালো হত। এই কথা শুনে শামীম এস্কান্দর এবং সেলিমা ইসলাম পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে পরামর্শ করেন। তারা সবাই খালেদাকে বিদেশে নেওয়ার পক্ষে মত দেন। কিন্তু খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী, বর্তমানে মানবিক দিক বিবেচনায় সরকারের নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে বলা হয়েছে, তিনি বিদেশ যেতে বা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে পারবেন না। তবে দেশের ভেতরে যেকোনো হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিতে পারবেন। মুক্তির শর্ত বিবেচনায় খালেদার পরিবারের সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খালেদাকে বিদেশে নিতে সরকারের সাথে যোগাযোগ করতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে অনুরোধ করেন শামীম এস্কান্দর। কিন্তু মির্জা ফখরুল এসময় তাকে জানান, লন্ডন থেকে তারেক রহমান বলেছেন, দেশের হাসপাতালেই খালেদার চিকিৎসা করাতে। বয়স বেশি হওয়ায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারেক। তাই তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সরকারের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন না। মির্জা ফখরুলের সাথে কথোপকথনের সময় উপস্থিত এক বিএনপি নেতা জানান, তারেকের নাম শুনেই গালিগালাজ শামীম এস্কান্দর। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, তারেক একটা বেয়াদব, আমার বোন যে এত বড় ভুল কীভাবে করেছে বুঝে আসে না। নিজের মা অসুস্থ, আর বেয়াদবটার সেদিকে কোন নজর নেই, মদ-মাগিবাজিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে! সে কি তার নিজের মাকে ভালো চিকিৎসা না দিয়ে মেরে ফেলতে চায়! রাগান্বিত কণ্ঠে এসব বলতে বলতে স্থান ত্যাগ করেন শামীম এস্কান্দর, যোগ করেন বিএনপির ওই নেতা।

এরপর বিএনপির নেতাদের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেই গতকাল সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে কথা বলেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দর। তিনি সরকারের কাছে মানবিক দিক বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চান। সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে বাইরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনি বিষয় উল্লেখ করে এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবেদন করতে বলেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার ব্যাপারে পরিবারের বা দলের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো দলের মহাসচিব। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অনুমতি না দিলে কীভাবে সরকারের সাথে কথা বলব। আমাদের দলের এবং ম্যাডামের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিচ্ছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনো মুক্ত নন। তিনি সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন, জামিনে নয়। দল তাকে মুক্ত করতে পারেনি, সরকারের দয়ায় তাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে দলের ভাবমূর্তি একবার নষ্ট হয়েছে। আবারও সরকারের কাছে দয়া ভিক্ষা করতে চাইছেন না তারেক রহমান। তাই দলের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়নি। কিন্তু পরিবারের সদস্য হিসেবে শামীম এস্কান্দর হয়ত আবেগি কথাবার্তা বলছেন, কিন্তু আমাদের তো দলের বিষয়টাও মাথায় রাখতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি