মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১



“অসুস্থ খালেদা: নেপথ্যের রাজনীতি”


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
05.05.2021

নিউজ ডেস্ক: বেগম খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কি, তা নিয়ে অস্পষ্ট এবং ধোঁয়াশাচ্ছন্নতা রয়েছে। কোনো চিকিৎসকই স্পষ্ট করে বলছেন না বেগম খালেদা জিয়ার শ্বাসকষ্ট কতটুকু। তারা অক্সিজেন লেভেলের অবস্থা কি? তারা আসলে অসুখ কি? বরং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে এখন ভিন্নমুখী দৌড়ঝাঁপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের তৎপরতা লক্ষণীয়। বেগম খালেদা জিয়ার এই অসুস্থতা কতটা গুরুতর এবং অসুস্থতার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কিনা এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন চলছে।

এর আগেও যখন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন তখন অসুস্থতার নাটক সাজানো হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাকে তার পছন্দ মতো বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে হবে। কিন্তু সেই সময় সরকার তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গেলে বেগম খালেদা জিয়া সেখানে চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান।

কিন্তু তারপরও দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিনেই তিনি কাটিয়েছেন। পরবর্তীতে দেখা যায় যে, বেগম খালেদা জিয়া যখন জামিনে মুক্তি পেলেন, বাসায় গিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি যে গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, সেজন্য তাকে কোনো হাসপাতালে নেয়া বা ভিন্ন মাত্রায় চিকিৎসা নেয়া বা বড় ধরনের কোনো পরীক্ষা ইত্যাদি কোনো লক্ষণই দেখা যায়নি। বরং নিভৃতে বেগম খালেদা জিয়া ভালোই আছেন, এমনটিই বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিলো।

তৃতীয়বারের মতো যখন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করা হয়, সেই আবেদনটিতে একটু ভিন্ন আঙ্গিক আনা হয়। আবেদনে বলা হয় যে, বেগম খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় তার পূর্বের শর্তে অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া তার নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেবেন এই শর্তেই খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বৃদ্ধি করেন। এরপর থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়া নিয়ে বিএনপির ভেতরে নানা রকম আলাপ-আলোচনা এবং কথাবার্তা চলছিলো।

সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই জানা যায় যে বেগম খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং করোনা আক্রান্ত নিয়েও বিএনপি`র মধ্যে এক ধরনের লুকোচুরি মনোভাব দেখা যায়। বেগম খালেদা জিয়ার করোনা নিয়েও এক ধরনের লুকোচুরি লক্ষ্য করা হয়েছে। যখন প্রথম ডা. মামুন নমুনা নেন পরীক্ষার জন্য তখন তিনি রুটিন পরীক্ষা বলেন এবং করোনা পরীক্ষা করা হয়নি বলেন।

পরবর্তী যখন আইইডিসিআর এর পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বেগম খালেদা জিয়া`র কোভিড পজেটিভ তখন বেগম জিয়ার চিকিৎসকরা এটি স্বীকার করেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়াকে একদিন এভারকেয়ারে নিয়ে যাওয়া হয় সিটি স্ক্যানের জন্য। দ্বিতীয় দফায় তাকে এভারকেয়ারে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়। গতকাল বলা হয় যে, বেগম খালেদা জিয়া শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে সিসিইউতে গেছেন।

কিন্তু খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কেউই সুনির্দিষ্ট করে কোনো কথা বলছেন না। যার ফলে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এক ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে ভর্তি করে, তার অসুস্থতার কথা বলে তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। একবার বিদেশ নিয়ে গেলে খালেদা জিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং তখন তারেক জিয়া এবং বিএনপি`র জন্য এটি হবে লাভজনক। আবার কেউ কেউ মনে করছেন যে, খালেদা জিয়া সত্যি সত্যি অসুস্থত। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এখন তার যদি চিকিৎসা না করে তাকে হাসপাতালে রাখা হয় এবং বেগম খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয় তাহলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তাবে।

কিন্তু যে যেটাই বলুক না কেন, শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যে অনাকাঙ্খিত রাজনীতি তৈরি হয়েছে সেই রাজনীতিটি বন্ধ হওয়া দরকার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি