বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » দেশবিরোধী তৎপরতা জোরালো করতেই চিকিৎসার নামে খালেদাকে বিদেশ নিতে চেয়েছিল বিএনপি!



দেশবিরোধী তৎপরতা জোরালো করতেই চিকিৎসার নামে খালেদাকে বিদেশ নিতে চেয়েছিল বিএনপি!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
11.05.2021

ডেস্ক রিপোর্ট:  দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়। এতে তাঁর অবস্থা দ্রুত ভালোর দিকে যায়। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার করোনা নেগেটিভও এসেছে। কিন্তু তারপরও খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য এত ব্যাকুল কেন বিএনপি? জানা গেছে, চিকিৎসা করানো মূল উদ্দেশ্য নয়, বরং খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র বাড়ানোই ছিল বিএনপির লক্ষ্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, গত বছরের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সরকার খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে কারামুক্তি দিয়েছিল। সরকার মানবিক কারণে দণ্ড স্থগিত করে খালেদা জিয়াকে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করার সুযোগ দেয়। তখনও বিএনপি খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছিলো। এবার খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হলেও আবার তৎপরতা শুরু করে বিএনপি। কিন্তু দেশেই যেখানে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে সেখানে তাকে বিদেশে নেওয়ার এই তৎপরতা কেন? জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান লন্ডনে থাকেন। এজন্য বিএনপি খালেদাকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করে। এর উদ্দেশ্য খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করা নয়, বরং তারেকের দেশবিরোধী তৎপরতাকে জোরালো করতেই খালেদাকে লন্ডন নেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করে বিএনপি। গোয়েন্দা সূত্রে বিষয়টি জানতে পারে সরকার।

সূত্র জানায়, লন্ডন থেকে অনলাইনে দেশবিরোধী তৎপরতা চালায় তারেক রহমান। তাঁর সাথে রয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন ব্লগার পিনাকী ভট্টাচার্য, হলুদ সাংবাদিক কনক সরওয়ার, বিদেশী গুপ্তচর তাসনিম খলিল, ক্যাপ্টেন শহীদসহ অনেকেই। এডের সাথে রয়েছেন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী বিএনপির পেইড এজেন্ট ডেভিড ব্যার্গম্যান। এই চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে মিথ্যা প্রচারণা চালায়। কিছুদিন আগে এরাই টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত টেলিভিশন আল জাজিরায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালায়। এইসব কাজের অর্থায়ন করেন তারেক রহমান। লন্ডনের একটি সূত্র জানিয়েছে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে এসে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন তারেক। তারেকের পরিকল্পনা ছিলো, খালেদার সাথে এই ষড়যন্ত্রকারীরা বসে সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার কৌশল ঠিক করবেন। সেইসাথে লন্ডনের পাকিস্তান দূতাবাসের সাথে খালেদা বৈঠক করারও কথা ছিল। এই বৈঠকে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং সরকার পতনের জন্য আন্তর্জাতিক লবি ঠিক করার কথা ছিল।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, খালেদাকে বিদেশে নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলো বিএনপি। তাদের পরিকল্পনা ছিলো খালেদা বাইরে থেকে পাকিস্তান দূতাবাসের সাহায্যে সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালাবেন আর দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে বিএনপি। এই কাজে জামায়াতে ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভিপি নুর বিএনপিকে সহযোগিতা করবে। এজন্য গত কিছুদিন ধরে এই দল এবং ব্যক্তিরা খালেদাকে বিদেশে নেওয়ার পক্ষে নানারকম কথাবার্তা বলেছে। তবে এসব ষড়যন্ত্র ধরা পড়ার পর বিএনপির সহযোগী এসব দল এবং ব্যক্তি এখন চুপ হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ৪০১ (১) ধারায় সাজা স্থগিত করে যে সুবিধাটি খালেদা জিয়াকে দিয়েছে, সেখানে আবার তাঁকে সাজা মওকুফ করে বিদেশে পাঠানোর কোনো অবকাশ নেই। সুতরাং বিএনপি এটি জেনেও খালেদাকে লন্ডনে নেওয়ার জন্য যে তৎপরতা শুরু করেছিলো সেটির পিছনে অন্য উদ্দেশ্য আছে বোঝাই যায়। জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্র করাই বিএনপির বর্তমান রাজনীতি উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা বলেন, জনগণ এবং সরকারকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। কোনভাবেই যাতে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশকে আবার পাকিস্তানি ধারায় ফেরত না নিতে পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি