শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



দলে ফিরতে কঠিন শর্ত পদত্যাগকারীদের, সরতে হবে তারেককে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.05.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে দল ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। বিগত দুই বছরে বিএনপি থেকে অন্তত ২০ হাজার নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। উল্লেখযোগ্য ছিলো সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান এবং অবসরপ্রাপ্ত লে: জেনারেল মাহবুবুর রহমান। আরও বেশ কয়েকজন নেতা দল ছাড়তে চান বলে গুঞ্জন উঠেছে দলটির রাজনীতিতে। এরা সবাই মূলত লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানের নেতৃত্ব থেকে দলকে বের করতে চাইছিলেন। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে তারেককে নিজ থেকে নেতৃত্ব ছেঁড়ে দেওয়ার জন্যেই পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কথায় কাজ না হওয়ায় অনেকটা রাগ করেই সিনিয়র নেতারা নিজেরাই পদত্যাগ করছেন বলেও জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে পদত্যাগ করা বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান বলেন, তারেক রহমান নেতৃত্ব মেনে নিতে না পারায় পদত্যাগ করেছি। প্রকৃত অর্থে দলের প্রতি অনুগত নন তারেক রহমান। তার প্রতিটি সিদ্ধান্তই দলকে বিপদে ফেলছে। আজ বিএনপির এমন অবস্থার জন্য এক মাত্র তারেক রহমানই দায়ী। আর এ কথা তারেক রহমানকে বোঝালেই তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্যদের ওপর রাগ করতেন। তার এমন একগুঁয়েমি সহ্য করতে না পেরেই পদত্যাগ করেছিলাম।

তিনি আরো বলেন, আমার পর আরো অসংখ্য নেতাই পদত্যাগ করেছেন, অথবা অনেক নেতাই নামমাত্র বিএনপি করছেন। তবে মনে রাখতে হবে যারা পদত্যাগ করে, তারা অবশ্যই বিএনপিকে ভালোবেসেই পদত্যাগ করেছে। সঙ্গে পদত্যাগকারী নেতারা জানিয়েছে, তারেক রহমান যদি তার একগুঁয়েমি সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে পদত্যাগ করেন, তবে অবশ্যই বিএনপির কল্যাণে তারা পুনরায় বিএনপিতে যোগ দিতে রাজি আছেন।

এদিকে জানা যায়, দলে তারেক রহমানের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে গোপনে। এর মূল কারণ হলো, দল নিয়ে তারেকের বিভিন্ন হঠকারী সিদ্ধান্ত। তাছাড়া তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বেয়াদবিও করেন প্রায়শই। একাধিক নেতা বলেছেন, বিভিন্ন ইস্যুতে তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফোনে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিও দিয়েছেন।

পদত্যাগী নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, তারেক রহমান দলে থাকলে বিএনপি করার কোনো মানেই হয় না। ২০০৭ সালে বিএনপির বিপর্যয়ের জন্য যিনি প্রধানত দায়ী। তার নেতৃত্বে আর যাই হোক বিএনপিকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তার নেতৃত্বে বিএনপি করা আর আত্মহত্যা করা সমান কথা। তিনি নিজেরটা ছাড়া আর কিছুই বোঝেন না। নিজের মায়ের জন্যেই যার কোনো দরদ নেই, দল এবং দলের নেতা-কর্মীদের জন্য তার চিন্তা আসবে কেমন করে?



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি