শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



কেন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করছে সিনিয়র নেতারা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
12.05.2021

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক বিএনপি থেকে পদত্যাগ করছে বিএনপি। নির্ভরযোগ্য সূত্রবরাত জানা যায় বিগত দুই বছরে বিএনপি থেকে অন্তত ২০ হাজার নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন। উল্লেখযোগ্য ছিলো সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান এবং অবসরপ্রাপ্ত লে: জেনারেল মাহবুবুর রহমান। এছাড়া জোট থেকে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের দল বিজেপি বিদায় নিয়েছে। অপরদিকে সিলেটের মেয়র আরিফুল হকসহ সেখানকার কয়েকজন নেতা বিএনপি ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন।

ফলে প্রশ্ন উঠেছে কেন বিএনপি থেকে পদত্যাগ করছেন নেতা কর্মীরা। এ প্রসঙ্গে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিষয়গুলো প্রমাণ করে, বিএনপির সমর্থকরা স্বার্থের জন্য দল করতো। বর্তমানে দল করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ
এই দল ১৪ বছর যাবৎ ক্ষমতার বাইরে। ফলে টেন্ডারবাজি আর ঘুষ খেয়ে তারা সংসার চালাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আর এ কারণেই তারা দল ছাড়ছেন। তবে দলের ভেতর অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে উপেক্ষা করা যাবে না। অনেক সিনিয়র নেতা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার হয়ে দল ছেড়েছেন।

এদিকে যদিও দলের সিনিয়ররা পদত্যাগ করছেন এবং কয়েকজনের পদত্যাগের হুমকি দিচ্ছেন, তবে এতে বিএনপিতে কোন প্রভাব ফেলেনি বলে দলটির নেতাদের অনেকে বলছেন। কিন্তু পদত্যাগকারী এবং পদত্যাগের হুমকি দেয়া নেতাদের ঠেকানোর জন্য তাদের সাথে বিএনপির নেতৃত্ব আলোচনা চালাচ্ছেন। কেউ যাতে বিএনপির জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো অবস্থান না নেয়- সে ব্যাপারেও দলটির নেতৃত্ব সতর্ক অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।

দলটির নেতারা মনে করেন, তাদের দলের জন্য সময় এখন কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। ফলে এমূহুর্তে কারও পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থাও নেয়া হবে না। অন্যদিকে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে কারও পদত্যাগের বিষয়টিই স্বীকার করছে না। বরং তারা বলছে, দু’একজন দল থেকে বেরিয়ে গেলে কোনো ক্ষতি হবে না। যা মিথ্যাচার বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

নেতাদের এমন কৌশলী অবস্থান ও মিথ্যাচার নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কিছুটা হতভম্ব। তারা বলছেন, কৌশল করেও কৌশলগত অবস্থান টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছে দলটি। এর ফলে তারা রাজনৈতিকভাবে মৃত্যুবরণ করছে।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, নেতাদের পদত্যাগের সত্যতাকে আড়াল করছে দলটি। আর আড়াল করতে গিয়ে তারা পদত্যাগের সত্যতা শিকার করছে না। আবার কেউ কেউ বলছে, নেতাদের পদত্যাগে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। যা মিথ্যাচার বলেই বিবেচিত। এর প্রভাবে দলটির ভাবমূর্তিতে আঘাত পড়ছে বৈকি!



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি