শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১



খালেদাকে নিয়ে বিভক্ত বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
13.05.2021

নিউজ ডেস্ক: খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া না যাওয়া, খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আন্দোলন করা না করা ইত্যাদি বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপির রাজনীতিতে ক্রমশ বিভক্তির রেখা স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপি`র নেতৃবৃন্দ এখন প্রকাশ্যেই বিভক্ত হয়ে পড়ছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার সরকারের কাছে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার আবেদন করেছিল। সেই আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয় নাকচ করে দেয় এবং এটি আইন এবং সংবিধানসম্মত নয় বলে মতামত দেন আইন মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের পর বিএনপির একাংশ এটি নিয়ে কথাবার্তা বললেও আরেকাংশ একেবারেই নীরব রয়েছে। বিএনপি`র মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মাহবুব হোসেনই শুধুমাত্র এই বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ হওয়ার বিরোধিতা করছেন। অন্যদিকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাসের মতো নেতারা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নীরব। বরং তারা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ করে মন্দের ভালো হয়েছে। এটিতে বিএনপি শক্তি পাবে।

তারা এটাও মনে করছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া যদি বিদেশ চলে যেতেন তাহলে বিএনপি`র কোনো অস্তিত্বই থাকত না। আর বিএনপি মহাসচিব, খন্দকার মাহবুব হোসেন, নজরুল ইসলাম খানরা তারেক জিয়ার দিকে তাকিয়ে থেকেই শুধুমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ হওয়ার সমালোচনা করছেন। তারাও বিশ্বাস করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া যদি শেষ পর্যন্ত বিদেশে চলে যেতেন তাহলে পরে বিএনপির রাজনীতি এবং অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পড়তো। বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়া এ ধরনের অমর্যাদাকর বিদেশযাত্রার আবেদন করাই উচিত হয়নি। বরং এটিকে একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে, আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে আনা প্রয়োজন ছিলো। তবে বিএনপির তৃণমূলের একটি বড় অংশ মনে করে যে, জনগণের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিএনপি কোনো কথাবার্তা না বলে শুধুমাত্র খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার ইস্যু নিয়ে কথাবার্তা বলে। এটিতে জনগণের মধ্যে বিএনপি`র সম্বন্ধে একটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হচ্ছে এবং এর ফলে বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এখন বিএনপি`র করনীয় কি এটি নিয়েও বিএনপির মধ্যে মতবিরোধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি`র একটি বড় অংশই মনে করে যে, খালেদা জিয়ার আবেদন নাকচ, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে এবং হেফাজতের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ইত্যাদি সামগ্রিক বিষয় নিয়ে এখনই সরকারের বিরুদ্ধে একটা বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা যায়। সেই আন্দোলনে হেফাজতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে একটি মোর্চা গঠন করা যেতে পারে। কিন্তু বিএনপি`র একটি বড় অংশ মনে করছে যে, এখন যে অবস্থা তাতে বিএনপি সংগঠন আগে গড়ে তোলা দরকার, আন্দোলন পড়ে। এখন আন্দোলন করার বাস্তব পরিস্থিতি বা শক্তি বিএনপির নেই বলে বিএনপির এই পক্ষের নেতারা মনে করছেন। তারা মনে করছেন যে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শুরু থেকেই যদি জোরালো আন্দোলন করা যেতো তাহলে এই অবস্থা হতো না।

এখন খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি এই দাবিতে আন্দোলন করলে তা জনগণের কাছে পাত্তা পাবে না। বরং বিএনপি`র এই অংশ মনে করছে যে, সামগ্রিকভাবে অনেকগুলো ইস্যু নিয়ে ধাপে ধাপে আন্দোলন শুরু করা উচিত। বিএনপি`র এই অংশ মনে করে যে, সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা করে আন্দোলনের পরিকল্পনা নেয়া উচিত। আজকের পরিকল্পনা করে আন্দোলন করা উচিত না। বরং ৬ মাস একবছরের পরিকল্পনা নিয়েই আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করা উচিত। সেটি যদি করা না যায়, তাহলে পরে হঠাৎ ইস্যুতে আন্দোলন বিএনপিকে কোনো ইতিবাচক ফল দেবে না। বরং তাদের সামনে উদাহরণ আছে হেফাজত। হেফাজত যে দম্ভ দেখিয়েছিলো, সরকার ছোট অভিযান করেই হেফাজতকে দমন করেছে। আর এই কারণেই বিএনপি`র অনেকে মনে করছেন যে, আন্দোলন নয় বরং এখন সংগঠন গোছানোর সময়। তবে এই সমস্ত বিভক্তিগুলোর শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে কোন পথে নিয়ে যাবে সেটাই দেখার বিষয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি