শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১



২২ বছরেও কোন্দলের অবসান হয়নি কৃষক দলে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
16.05.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির অন্যতম অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল। দীর্ঘদিন পর গত মার্চে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সম্মেলন হলেও এখনও গঠন করা হয়নি কেন্দ্রীয় কমিটি। এ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা প্রকট আকার ধারণ করায় কৃষক দল এখন স্থবির।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারছেন না। জাতীয় সম্মেলনে এক শীর্ষ নেতার ‘বিতর্কিত’ কর্মকাণ্ডে এ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের দিয়ে শোডাউন, পক্ষপাতিত্ব, মারামারি ও কাউন্সিল করা নিয়ে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। নতুন করে কোন্দল ও বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় সংগঠনটির নেতৃত্ব বাছাই নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র ও দায়িত্বশীল এক নেতা জানান, দীর্ঘ ২২ বছর পরে গত ১২ মার্চ সম্মেলনের প্রথম পর্বেই কমিটি ভেঙে দেয়া ও কাঙ্ক্ষিত যোগ্য নেতা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর সমাধানও করতে পারছে না দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এর ফলে সম্মেলনের দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও কৃষক দলের কমিটি এখনও ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, সম্মেলনের দিন দ্বিতীয় অধিবেশনে গুলশান কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা যোগ দিতে গেলে গেটে থাকা লোকজন তাদের বাধা দেন।

তারা জানান, তাদের কেউ কেন্দ্রীয় কমিটির কাউন্সিলর নন, তাই ভেতরে ঢুকতে দেয়া হবে না। এ নিয়ে এক পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বিএনপি মহাসচিব বিষয়টি সুরাহা করবেন এমন আশ্বাসে তাদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিন্তু সুরাহা না হওয়ায় একপর্যায়ে সারাদেশ থেকে আসা নেতাদের অনেকেই যে যার মতো চলে যান।

দলের আরো একটি সূত্র জানায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের নাম ভাঙিয়ে সংগঠনের সদস্য সচিব (সদ্য বিলুপ্ত কমিটি) হাসান জাফির তুহিন মূলত প্রতারণা করেছেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে তিনি পাবনা থেকে বাস বোঝাই করে সম্মেলনে লোক নিয়ে আসেন।

কৃষক দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, সম্মেলনে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্ত ছিল- অনুষ্ঠানে শুধু খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে স্লোগান হবে। কিন্তু সংগঠনের সদস্য সচিব তুহিন নিজ এলাকা পাবনা থেকে চারটি বাসে নেতাকর্মীদের সম্মেলনস্থলে নিয়ে এসে তার নামে স্লোগান দেয়ার ব্যবস্থা করেন। এতে দলের অন্য নেতারা বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হন।

দলের একটি সূত্র জানায়, এতদিনেও কমিটি না হওয়ার পেছনে বিএনপির প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার ভূমিকাও রহস্যজনক। এ নেতারা নিজেদের মতো করে কমিটি ভাগাভাগি করে নিতে চেয়েছিলেন বলেই এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে কৃষক দলের দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন।

তবে জানা যায়, মো. শাহজাহান এখন আর কৃষক দলে থাকতে রাজি নন। সম্মেলনের পর ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু তিনিও দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি। ফলে কৃষক দলের কমিটি গঠন নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কমিটি নিয়ে নতুন চিন্তা-ভাবনা চলছে। কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু ও সদস্য সচিব তুহিনকে রেখে বা উভয়কেই বাদ দিয়ে কমিটি করার কথা ভাবা হচ্ছে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকরা কৃষক দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর চিন্তা করছেন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি