শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১



তারেক দেশে ফিরলে খালেদার অনুমতি মিলবে?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.05.2021

নিউজ ডেস্ক: বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া আটকে আছে। আইন মন্ত্রণালয় বলেছে যে, একজন দণ্ডিত ব্যক্তির উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি এবং বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও বলা হচ্ছে যে সরকার চাইলেই তাকে বিদেশ পাঠাতে পারে। এ বিষয়ে সরকারকে মানবিক হতে বলছে বিএনপি এবং বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা। আনুষ্ঠানিকভাবে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ হয়ে গেলেও এখনো হাল ছাড়েননি তার পরিবারের সদস্যরা। তবে সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গেও তারা যোগাযোগ করছেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

তবে বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন যে তারেক জিয়ার বিদেশে গিয়ে না ফেরা এবং বিভিন্ন রকম অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণেই আসলে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। এখানে আস্থা এবং বিশ্বাসের সংকট রয়েছে বলেও বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য মনে করছেন। ওই সদস্য বলেছেন যে, সরকারের সঙ্গে যখন তারা কথা বলেছেন তখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তারেক জিয়ার উদাহরণ দিয়েছেন। তারেক জিয়া বিদেশে যেয়ে দেশে ফিরে আসেননি এবং তার নামে রেড এলার্ট জারি করার পরও তিনি আসেননি। বাংলাদেশের আইনের দৃষ্টিতে তারেক জিয়া এখন একজন দণ্ডিত, পলাতক আসামি। একই ঘটনা বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে আশঙ্কা থেকেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি সরকার বলেই মনে করেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য বলেছেন, সরকারের সঙ্গে যখন তারা যোগাযোগ করছেন তখন সরকার বলেছে যে তারেক জিয়া দেশে ফিরে আসুক। দেশে ফিরে আসলে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে। সরকার মনে করছে যে যদি বেগম জিয়া বিদেশে যান তাহলে তারেক জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আরো নানারকম নোংরা খেলায় মেতে উঠবে এবং একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করবে। এই ঝুঁকি সরকার নিতে চাইছে না। তবে বিএনপি সূত্রগুলো বলছে যে, এ রকম শর্তে তারেক জিয়া দেশে ফিরবেন না। তার মাকে মুক্ত করতে হবে বা মার চিকিৎসা দরকার এরকম ভাবনা থেকে উদারতা দেখানোর পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সততা, সাহস তারেক জিয়ার নেই।

তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, এ ধরনের কোনো কথাবার্তা বিএনপি`র বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যদের সাথে তাদের হয়নি। সরকারের একাধিক নেতা বলেছেন যে, আইন দিয়েই সবকিছু করা হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যে অনুকম্পা দেখানোর সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন বলেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন মন্ত্রী বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত। তার জেলেই থাকার কথা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতার জন্য তাকে বাসায় থাকতে দেওয়া হয়েছে। আর তার দণ্ড মওকুফ বা বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন বিষয় বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া দুইভাবে বিদেশ যেতে পারেন। প্রথমত তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন দণ্ড মওকুফের জন্য। রাষ্ট্রপতি যদি ক্ষমা করেন তাহলে তিনি দণ্ডমুক্ত ব্যক্তি হিসেবে বিদেশ যেতে পারেন। দ্বিতীয়ত, তার বিদেশ যাওয়ার উপায় হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন যে, তিনি যদি আদালত দ্বারা মুক্তি প্রাপ্ত হন এবং আদালত যদি তাকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয় তাহলে সরকারের কিছু করণীয় নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যাই বলুক না কেন তারেক জিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে যে সরকার বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছে সেটি বলাই বাহুল্য।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি