শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



তারেক জিয়াই হেফাজত তাণ্ডবের মূল হোতা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.05.2021

নিউজ ডেস্ক: এ বছর মার্চের ২৬ এবং ২৭ তারিখে ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চট্টগ্রামে হেফাজত যে তাণ্ডব চালিয়েছে তার মূল হোতা হিসেবে তারেক রহমানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ চট্টগ্রাম জামায়াতের নেতা শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর তার সঙ্গে প্রাথমিক আলাপ আলোচনার প্রেক্ষিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে যে তারেক জিয়ার নীলনকশা অনুযায়ী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এই তাণ্ডব চালানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক সূত্র বলছে যে, তারা হেফাজতের বিরুদ্ধে দুটি বিষয় তদন্ত করছে। প্রথমত, ২০১৩ সালে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র আর দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে চক্রান্ত। আর এই দুটির সঙ্গেই বিএনপি এবং জামায়াত যে জড়িত সেটি তদন্তে খুব পরিষ্কারভাবে বেরিয়ে আসছে বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সূত্রগুলো বলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, ২০১৩ সালে যে শাপলা চত্বরে তাণ্ডব চালানো হয়েছিল সেটি বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। বেগম খালেদা জিয়া এই বিষয়টি জানতেন এবং সম্মতি দিয়েছিলেন। তখন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল যে বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র গঠন করা হবে। আহমদ শফী রাষ্ট্রপতি হবেন, জুনায়েদ বাবুনগরী প্রধানমন্ত্রী হবেন। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই তারা শাপলা চত্বরে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি সরকারের দৃঢ়তার জন্য। আর এ বছরের মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসার বিরোধিতা করা নিয়ে যে তাণ্ডব করা হয়েছিল তার মূল পরিকল্পনা করেছিলেন তারেক জিয়া। একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটানো এবং এই সরকারকে দুর্বল প্রতিপন্ন করা যেন ভারত আর আওয়ামী লীগ মুখী না থাকে এবং সরকার যেন দেশে দুর্বল হয়ে পড়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই তারেক জিয়া হেফাজতকে ব্যবহার করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, তারেক জিয়ার এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল জামায়াত ইসলাম এবং পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়টি ছিল যে, নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় দেশে একটি তাণ্ডব চালানো হবে, এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যেন বুঝতে পারে যে আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত দুর্বল। তারা যে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন এবং সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব দেখায় সেটা থেকে তারা সরে যাবে। বাংলাদেশে ভারতবিরোধী একটি জোয়ার তৈরি করে আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করার নীলনকশা প্রণয়ন করেছিলেন তারেক জিয়া। একাধিক সূত্র বলছে যে, জামাতের নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে তারেক জিয়ার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে যখন তারেক নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তখন শাহজাহান চৌধুরী হেফাজতের জুনায়েদ বাবুনগরী এবং আরো কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এমন তথ্য প্রমাণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে এসেছে। আর এই প্রক্রিয়ায় হেফাজতকে মাঠে নামানোর জন্য তারেক জিয়া অর্থসহায়তা দিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর একটা ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ হয়, শেষ পর্যন্ত যেন নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফর না করেন। এটি ছিল পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের চাওয়া। আর এ নিয়ে তারেক জিয়ার সঙ্গে আইএসআইয়ের কর্মকর্তাদের কথাবার্তার কথা নিশ্চিত করেছেন নিষেধ করেছে গোয়েন্দা সূত্রগুলো। তারা মনে করেছিল যে, যদি হেফাজত হুমকি দেয় এবং একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে তাহলে শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর করবে না। বাংলাদেশ সফর যদি না করে তাহলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। পরিকল্পনার দ্বিতীয় অংশ ছিল যে শেষ পর্যন্ত যদি নরেন্দ্র মোদী আসেনও তাহলে বাংলাদেশে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা হবে যেন ভারত সরকার বুঝতে পারে যে আওয়ামী লীগ সরকারের জনভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে, বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তখন ভারত বিকল্প কৌশল গ্রহণ করবে এবং অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও একটা সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে। এককভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসবে। সূত্রগুলো বলছে যে, তারেক জিয়া মনে করে যে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটাতে হলে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের দূরত্ব তৈরি করতে হবে। আর দূরত্ব তৈরি করার জন্য নরেন্দ্র মোদির সফরে বিঘ্ন সৃষ্টিই ছিল তাদের প্রধান পরিকল্পনা। আর তারেক জিয়ার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এজেন্ট ছিল জামায়াত। আর জামাতের মাধ্যমেই হেফাজত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি