বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১



হেফাজত বাঁচতে অভিনব কৌশল নিয়েছে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.05.2021

নিউজ ডেস্ক: হেফাজতে ইসলাম যে ইসলামের হেফাতকারী সংগঠন নয় বিষয়টি বাংলাদেশর ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছে। বিশেষ করে ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম। ইসলাম কোনো ধরনের সহিংসতা, মানুষ হত্যা বা ক্ষমতাকে ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ উপার্জনকে সমর্থন করে না। আর এই কাজগুলো হেফাজতের নেতারা করেছেন সেই বিষয়টি এখন দিবালোকের মতো পরিস্কার। আর হেফাজতে ইসলাম যে নিজেদের সুবিধার জন্য একের পর এক মিথ্যা কথ্য, মিথ্যা অভিনয় এবং মিথ্যা অঙ্গীকার করতে পারদর্শী সেই বিষয়টি এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। তবে এতো সব কিছুর পরেও হেফাজত তাদের অবস্থান ধরে রাখতে মরিয়া। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা এখন নেই।

সূত্রগুলো বলছে, হেফাজত সরকারের মনোভাবে বুঝতে পেরে নান কৌশলে সরকারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আর এর জন্য কিছু রাজনৈতিক নেতা, আমলা এবং সাবেক নেতাদের ব্যবহার করছে তারা। তারা সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে হেফাজত সরকারের সব ধরনের শর্ত মেনে নিতে প্রস্তুত তাই তাদের ব্যাপারে সরকারের নমনীয় হওয়া উচিত। যদিও এ নিয়ে হেফাজতের মধ্যেও দ্বিমত রয়েছে। হেফাজতের বিএনপি-জামায়াত অংশের কথা হচ্ছে আপাতত কিছুদিন পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করে রমজান এবং লকডাউনের পর যখন মাদ্রাসাগুলো খুলে দেয়া হবে তখন কোমলমতি ছাত্রদের মগজ ধোলাই দিয়ে সর্বশক্তি এবং বিএনপি-জামায়াতের শক্তি এক করে বড় পরিসরে তাণ্ডব ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে হবে। আর এতে করে ঢাকা শহর অচল হয়ে গেলে সরকার বাধ্য হয়ে হেফাজত নেতাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে এবং হেফাজতের জয় হবে, হেফাজত নামক সংগঠনটি আরও শক্তিশালী হবে।

এই অংশের দাবি হচ্ছে এখন সরকারের কাছে যত নত হওয়া যাবে সরকার হেফাজতকে তত দুর্বল ভেবে সরকারের সিদ্ধান্তগুলো হেফাজতের ওপরে চাপিয়ে দিয়ে হেফাজতকে মূলত গৃহপালিত একটি পুতুল সংগঠনে পরিণত করবে। আর হেফাজতের এই অবস্থান যখন মানুষের মধ্যে প্রচার হয়ে যাবে যে হেফাজত বলতে কিছু নেই। সরকারের ইশারায় চলে এই সংগঠনটি তখন মানুষ হেফাজত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং একটা সংশয়ে সংগঠনটি বিলিন হয়ে যাবে।

এই সূত্রগুলো বলছে, যখন কোনো সংগঠনের নিজস্বতা, মূলনীতি, নিজস্ব এজেন্ডা থাকে না তখন সেই সংগঠনের কর্মী থাকে না আর যখন কর্মী থাকে না তখন সেই সংগঠন কোনো সংগঠনই থাকে না। আদতে একটি নাম সর্বশ্য কমিটি থাকে। কিন্তু এই অংশটি চায় নানা টালবাহানা করে সরকারের সঙ্গে সুর মিলিয়ে দেন দরবার করে ঈদ এবং লডকাউন ‍খুলে দেয়া পর্যন্ত সরকারকে অপেক্ষায় রাখা। তারপর তারা আবার স্বরুপে ফিরে দেশকে অচল করে দেয়ার পরিকল্পনায় লিপ্ত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হেফাজত সরকারের সামনে একটি ধোয়াশা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাইছে। তারা সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে আমরা আপনাদের কোনো ধরনের বিরোধীতা করবো না আমাদের নেতাকর্মীদের মুক্তি দেন। অন্যদিকে সরকার বিরোধী অংশকে বোঝানোর চেষ্টা করছে যে আমরা সরকারের সঙ্গে নমনীয় ভাব দিচ্ছি এই কারণে যে সরকার ঈদ ও লকডাউন তুলে নেয়া পর্যন্ত নীরব থাকে আমাদের ব্যাপারে তারপর আমরা মাঠে শক্তিশালী কর্মসূচির মাধ্যমে নেতার্মীদের ছাড়িয়ে আনবো এবং সরকার আমাদের কথা শুনতে বাধ্য হবে।

অন্যদিকে একটা গুঞ্জন চলছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেহেতু হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে ৩ দফা বৈঠক করেছেন তার মানে সরকারেরও এক ধরনের আগ্রহ আছে। আর এই বার্তাটি হেফাজতকর্মীরা সারাদেশে ভালোভাবেই ছড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এখন দেখার বিষয় হেফাজত তার কৌশলে জয়ী হয় নাকি সারকারের দক্ষ রাজনীতির কাছে পরাজীত হয়ে অস্তিত্ব হারায় সংগঠনটি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি