শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » সাংবাদিক রোজিনাকাণ্ডে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ব্যাখ্যা



সাংবাদিক রোজিনাকাণ্ডে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ব্যাখ্যা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.05.2021

নিউজ ডেস্ক: প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে সচিবালয়ে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত আচরণ এবং পরবর্তী ঘটনার বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রনালয় থেকে পাঠানো একি বিবৃতিতে ব্যাখ্যা জানিয়েছেন।

বাংলা নিউজ ব্যাংকের পাঠকদের জন্য হুবুহু তা তুলে ধরা হলো-

গত ১৭-০৫-২০২১ তারিখ সোমবার বেলা ২:০০ টায় মাননীয় মন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উভয় বিভাগের সচিব এবং অতিরিক্ত সচিবদের সাথে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায শেষে কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব কক্ষে চলে যান। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব মহোদয়ের কক্ষে থাকাকালে জনৈক মহিলা একান্ত সচিবের ফাঁকা কক্ষে ঢুকে পড়েন। উক্ত মহিলা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ছবি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তোলার সময় সচিব মহোদয়ের দপ্তরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. মিজানুর রহমান খান দেখতে পান এবং তাকে বাধা প্রদান করেন। নির্ধারিত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তিনি কেন নথিপত্রের ছবি তুলেছেন জানতে চাইলে তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটকে দেন এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এসময় আটককৃত ব্যক্তিটি মহিলা হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগমসহ কয়েকজন মহিলা কর্মকর্তা/কর্মচারী তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি প্রথমে তার নাম সুলতানা এবং তিনি একজন সাংবাদিক বলে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তার সাংবাদিকতার কার্ড চাইলে তিনি সেটা প্রদর্শন করেন। সেখানে তার নাম রোজিনা ইসলাম বলে জানা যায়, যিনি দৈনিক প্রথম আলোর একজন সিনিয়র সাংবাদিক।

তার মোবাইল ফোনটি চেয়ে নেওয়া হয় এবং তিনি সেটার পাসওয়ার্ড খুলে দিলে দেখা যায় তার মোবাইলে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় অনেক দলিলের ছবি রয়েছে। অবৈধপন্থায় রাষ্ট্রের গোপনীয় দলিলের ছবি তোলার অপরাধ করায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আনা হয় এবং রোজিনা ইসলামকে তাদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এসময় তার কাছে আর কি আছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করায় মহিলা কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে তল্লাশি করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে রাখা কাগজপত্র/ফাইল পাওয়া যায়। এতে প্রতীয়মান হয় তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে এসব সংগ্রহ করেছেন। এ সময় রোজিনা ইসলাম মাটিতে শুয়ে পড়লে তাকে উঠিয়ে চেয়ারে বসানো চেষ্টা করা হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সাথে কোনরূপ অশোভন আচরণ অথবা কোন প্রকার হেনস্থা করা হয়নি। তার নিকট থেকে প্রাপ্ত অধিকাংশ কাগজি বাংলাদেশের সাথে দুটি বিদেশি রাষ্ট্রের নিকট হতে করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়-চুক্তি সংক্রান্ত। যা প্রকাশিত হলে বিদেশি রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি এমনকি দ্বিপাক্ষিক টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। যার ফলে দেশবাসি টিকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারত এবং করোনা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কাজও বিঘ্নিত হত।

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদি রক্ষা করা সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বিধায় এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ শাহবাগ থানায় দায়ের করা হয়। স্থানীয় নিকটবর্তী থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিতকরণ, তার নিকট হতে প্রাপ্ত দলিলাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়ায় অনেকটা সময়ক্ষেপন হয়। এ সময় অভিযুক্তকে একান্ত সচিবের কক্ষে সসম্মানে রাখা হয়। সে সময় তার সাথে তার স্বামী এবং সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কোন ব্যক্তি আইনের উর্ধে নয়। এ ঘটনা তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ৩ (তিন) সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার/তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুঃখজনকভাবে বিষয়টি নিয়ে কিছু কিছু সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য ছবি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। যেমন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগমের নাম উল্লেখ করে যে ছবি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে উক্ত কর্মকর্তারই নয়।

গণমাধ্যমকর্মীগণ বরাবরই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড জনসাধারণের নিকট উপস্থাপন করে আসছেন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সকল বিষয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন গত। ১৭/৫/২০২১ তারিখে সংঘটিত অনভিপ্রেত বিষয়টি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। একজন ব্যক্তির কৃত অপরাধের দায়ে কোন সম্প্রদায় বা পেশাজীবী গোষ্ঠীর নয় বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে সকল প্রচারমাধ্যমের ইতিবাচক সম্পর্কের বন্ধন সবসময়ই সুদৃঢ় ও সমুন্নত থাকবে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে সৃষ্ট বিভ্রান্তি, প্রকৃত তথ্য জানার মাধ্যমে দূর হবে বলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রত্যাশা করে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি