শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম আলো এবং রোজিনা ইসলামের ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা?



রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম আলো এবং রোজিনা ইসলামের ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কারা?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
19.05.2021

করোনাভাইরাস মহামারিতে উন্নত অনেক দেশ পর্যুদস্ত হলেও সীমিত সম্পদ নিয়েই বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত নিরাপদ অবস্থানে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে এবং সরকারের জনবান্ধব স্বাস্থ্যনীতির কারণে বাংলাদেশে করোনার প্রকোপ তত বেশি হয়নি। গত বছরের মার্চে দেশে করোনার প্রথম সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের জনগণের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সারা বছরজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনে লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত করোনা পরীক্ষা, হাসপাতালে পর্যাপ্ত সিট এবং আইসিইউয়ের ব্যবস্থা করায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার অনেক কম, যা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই মহামারি ব্যবস্থাপনায় এই সাফল্য এসেছে। কিন্তু এই সফলতা কারও কারও জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নামে-বেনামে অনলাইন মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এসব অপপ্রচারে দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা যুক্ত আছেন। জানা গেছে, বিভিন্ন সময় সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি গোষ্ঠী মিথ্যা তথ্য এবং উস্কানিমূলক সংবাদ পরিবেশন করে দেশে মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় কথিত নিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী সংবাদমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো বাংলাদেশ সরকারের করোনা সাফল্যকে কালিমালিপ্ত করতে একের পর এক উদ্দেশ্যমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করা শুরু করে। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমটি এ কাজে তাদের সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নিয়োজিত করে।

জানা গেছে, গত কিছুদিন ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ করছেন রোজিনা ইসলাম। এসবের মধ্যে অনেক সংবাদই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মিথ্যাচারে ভরপুর। রোজিনা ইসলাম প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ মাস ধরে পড়ে আছে অক্সিজেন সরবরাহ সামগ্রী। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে পড়ে আছে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র ৩০০ ভেন্টিলেটর। অথচ করোনার রোগী হাসপাতালে প্রয়োজনে অক্সিজেন পাচ্ছে না।’ কিন্তু একটু খোঁজ নিলেই জানা যাবে, প্রথম আলো এবং রোজিনা ইসলামের দেওয়া এই তথ্য সত্য নয়। প্রতিবেশী ভারতে অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা গেলেও বাংলাদেশ সরকারের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে এখন পর্যন্ত কোন হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটের দেখা যায়নি। বিমানবন্দর এবং কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে চিকিৎসা সামগ্রী পড়ে থাকার যে কথা বলা হয়েছে তাতেও সত্য লুকানো হয়েছে। সরকারি কেনাকাটা সংক্রান্ত বিষয়ে যারা একটু খোঁজ রাখেন সবাই জানেন যে, এসব কেনাকাটার কিছু প্রক্রিয়া আছে। প্রকল্প পাস করা, চুক্তি করা, বিদেশ থেকে আমদানি, এরপর বণ্টন এসব সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তবুও সরকার যত দ্রুত সম্ভব করোনা চিকিৎসা সামগ্রী দ্রুত আমদানি করে দেশের হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করেছে। কিন্তু এই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে যেভাবে প্রতিবেদন করা হয়েছে তাতে মনে হবে সরকার করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাই করেনি। প্রথম আলো এবং রোজিনা ইসলামের এরকম প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য কি?

জানা গেছে, এরকম ধারাবাহিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কয়েকটি রিপোর্ট প্রকাশের পর গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যান সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের অনুপস্থিতিতে সোমবার দুপুরে কৌশলে তার কক্ষে ঢুকে পরেন রোজিনা। এই কক্ষে করোনাভাইরাসের টিকা সম্পর্কে রাশিয়া ও চীনের সাথে সম্প্রতি স্বাক্ষর করা চুক্তি বিষয়ক নথিপত্র ছিলো। রোজিনা ইসলাম সেখানে ঢুকে ফাইলের ছবি তোলেন এবং কিছু ফাইল ফাইল ব্যাগে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ঢোকান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এগুলো গোপন নথি। রাশিয়া, চীনের সাথে বাংলাদেশের টিকা চুক্তির ফাইল। যেসব দেশের সাথে এই চুক্তি করা হয়েছে তাতে বলা আছে এসব তথ্য বাইরে প্রকাশ করা যাবে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে এই চুক্তি গোপন রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এগুলো যদি বাইরে চলে যায় তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে এবং চুক্তিকারী দেশগুলো টিকা নাও দিতে পারে। এতে দেশের বিরাট ক্ষতি হতে পারে। এই তথ্য তো সাংবাদিক হিসেবে রোজিনা ইসলাম জানতেন, তাহলে কার স্বার্থে এসব গোপন নথি চুরি করছিলেন তিনি? এসব নথি কার কাছে সরবরাহ করতেন তিনি?

সূত্র জানায়, একের পর এক সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে গেলেও প্রথম আলো গোষ্ঠী এবং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু যখন সংবাদ পরিবেশনের নামে সচিবালয় থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করতে গিয়ে রোজিনা ইসলাম ধরা পড়েছেন তখনই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিশ্লেষকরা জানান, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘসময় ধরে ষড়যন্ত্র করছে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা। এই দুই পত্রিকা ২০০৭ সালে শেখ হাসিনাকে দেশে না আসতে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলো। এই দুই পত্রিকার অনেক সাংবাদিক পশ্চিমাদের গুপ্তচর হয়ে কাজ করেন বলেও মিডিয়াপাড়ায় গুঞ্জন আছে। জানা গেছে, এখন বাংলাদেশ যখন করোনায় সফলতা লাভ করেছে তখন নতুন করে সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্তে মেতে উঠেছে ষড়যন্ত্রকারীরা। হলুদ সাংবাদিক তাসনিম খলিল, শহিদুল ইসলাম, ড. কামাল হোসেন, বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুর এসব ষড়যন্ত্রকারীদের মধ্যে অন্যতম। পেছন থেকে এই ষড়যন্ত্রকারীদের অর্থ সহায়তা দেয় পাকিস্তান দূতাবাস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুর্নীতিবাজ আরেক রহমান। স্বাধীনতাবিরোধী এবং উন্নয়নের বিরোধী এই শক্তি কিছুদিন আগে আল জাজিরায় সরকারের বিরুদ্ধে নোংরা মিথ্যাচার প্রচার করেছে। এসব অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্রের সাথে প্রথম আলো পত্রিকা এবং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সংযোগ থাকার সম্ভাবনা আছে উল্লেখ করে বিশ্লেষকরা জানান, সরকারকে তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করতে হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থেই এটা করতে হবে। যে সাংবাদিক দেশের গোপন নথি চুরি করেন তার পেছনে অনেক বড় ষড়যন্ত্রকারীরা যুক্ত আছেন। সরকারের এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সাংবাদিকের সাথে আর কে কে জড়িত আছেন সেসব খুঁজে বের করতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি