শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের অঢেল সম্পদের উৎস কি?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.05.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: সরকারি নথি চুরির অভিযোগে গ্রেফতারকৃত প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এতে বার বার যে বিষয়টি ঘুরে ফিরে আসছে তা হচ্ছে রোজিনার অঢেল সম্পদের উৎস কি!

নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান রোজিনা ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৫ সালের ব্যাচের সাংবাদিকতার ছাত্রী ছিলেন। ২০০৪ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। রোজিনার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন বহিরাগত। ২০০১ সালে মিঠু বাসাবোতে ব্যাচেলর হিসেবে একটি রুমে ভাড়া থাকতেন। ব্যাচেলর বাসায় প্রায়শই রোজিনার রাতে থাকা নিয়ে এলাকাবাসী অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাসা ছাড়তে হয় তাদের।

সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মনোমালিন্য সৃষ্টি হলে মিঠু তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে নিবাসী বন্ধু ফিরোজের অনুরোধে রোজিনাকে বিয়ে করেন মিঠু। মিঠুর ঠিকাদারি ব্যবসার মূল সহযোগী ছিলেন রোজিনা। মিঠুর ঠিকাদারি ব্যবসায় পুঁজিও জোগাড় করা হয়েছিল দু’জন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে।

সাবেক বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও গৃহায়ন মন্ত্রী আবদুর মান্নানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে কিছু কাজ পেলেও দ্বিতীয় শ্রেণীর ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতেন মিঠু। ২০১১ সাল থেকে অঢেল সম্পদের মালিক হতে শুরু করেন রোজিনা ও মিঠু। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সহযোগীদের একজন হিসেবে জিকে শামীমের ঠিকাদারি সিন্ডিকেটে যোগ দেন মিঠু। সাহেদ আলমের কয়েকটি ঠিকাদারি কাজের সাব কন্ট্রাক্ট পান মিঠু।

প্রথম আলোতে রোজিনার গুরুত্ব বাড়ার কারণ ছিল মিঠুর দলীয় সংশ্লিষ্টতা ও সাংবাদিকতার পরিচয়ে প্রভাবশালী অনেকের ঘনিষ্ঠ হন। দল ও প্রশাসনের অন্তর্দলীয় কোন্দলের সুযোগে অনেক তথ্য তিনি পেতেন। আর সেগুলোকে বিকৃত করে আলোচিত সংবাদের জন্ম দিতেন রোজিনা।

ঢাকায় শূন্য হাতে আসা মিঠু ও ৪০ হাজার টাকা বেতনের রোজিনার সম্পদের পরিমাণ অগণিত। বাসাবো, ধানমন্ডি ও বনানীতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুটি বহুতল বিশিষ্ট বাড়ি ছাড়াও রাজউকের উত্তরা ও পূর্বাঞ্চলে কয়েকটি প্লট রয়েছে। প্রাইম ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকার। যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ভিসায় অভিবাসনের আবেদন করেছেন।

কয়েকবার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করেছেন রোজিনা। কয়েকজন ব্যবসায়ী ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তার বিদেশে অর্থপাচারে সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে রোজিনা ও মিঠুর বিরুদ্ধে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও দুর্নীতিতে সহায়তা করেছেন রোজিনা। সাংবাদিকতার কলমকে তিনি ব্যবহার করেছেন ব্যবসায়িক স্বার্থ উদ্ধার ও অর্থসম্পদ গড়ার মাধ্যম হিসেবে।

আমরাও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। কিন্তু সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য সৎ সাংবাদিক প্রয়োজন। জাতির বিবেক হিসেবে কাজ করা সাংবাদিকদের সুনাম ও ভাবমূর্তি রক্ষায় রোজিনার অঢেল সম্পদের উৎস জানা প্রয়োজন।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি