শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » আমেরিকার সিটিজেনশিপের জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন রোজিনা ইসলাম!



আমেরিকার সিটিজেনশিপের জন্য টাকা জমাচ্ছিলেন রোজিনা ইসলাম!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.05.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: টাকায় কী না হয়? টাকা থাকলে নাকি বাঘের চোখও কিনতে পাওয়া যায়। কিন্তু তাই বলে নাগরিকত্বও। হ্যাঁ। শুনতে আশ্চর্য মনে হলেও এটাই সত্যি যে, শুধুমাত্র টাকার বিনিময়েই বিশ্বের অনেক দেশে রাতারাতি নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট পাওয়া যায়। কোথাও সরাসরি টাকার বিনিময়ে, আবার কোথাও বিনিয়োগের নামে টাকা দিয়ে। যা আসলে নাগরিকত্ব কিনে নেওয়ারই নামান্তর। এভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। সরকারি গোপন নথি চুরি করে ধরা পড়ে আলোচনায় আসা প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামও সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। জানা গেছে, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের মত আমেরিকায় বসবাসের স্বপ্ন ছিলো রোজিনার। লালিত স্বপ্ন পূরণে দরকার কয়েক কোটি টাকার। কিন্তু পারিবারিকভাবে কিংবা চাকরির সূত্রে তিনি এত টাকা উপার্জন করতে না পারায় নিজের স্বপ্ন পূরণে বেছে নেন অনৈতিক পথ। মিডিয়ার প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ফাইল আটকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। আমেরিকায় বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্যই এই টাকাগুলো জমাচ্ছিলেন বলে রোজিনার ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে।

রোজিনা ইসলামের সহকর্মী প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শেখ সাবিহা আলম জানান,পারিবারিক সূত্রে কিংবা কিংবা চাকরির মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার উপায় নেই রোজিনা ইসলামের। তাই তিনি আমেরিকায় টাকা বিনিয়োগ করে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আর এজন্যই নানা অনৈতিক উপায়ে টাকা উপার্জনের পথ বেছে নেন তিনি।

জানা গেছে, আমেরিকায় ভিসা পাওয়ার বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরি রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম সহজ উপায় হচ্ছে ‘ইমপ্লয়মেন্ট-বেজড’ (ইবি) সিরিজ। যারা আমেরিকায় স্থায়ীভাবে ভিসা পেতে আগ্রহী তারা ইবি সিরিজের ১ থেকে ৫ পর্যন্ত ক্যাটাগরিগুলোতে আবেদন করতে পারবেন।

দেশটির অভিবাসন নীতির ইবি-৫ অনুযায়ী, কারও যদি আমেরিকা গিয়ে উদ্যোক্তা হবার মতো অর্থ থাকে তাহলে তিনি ভিসা পেতে পারেন। এই ক্যাটাগরিতে ভিসা পেতে হলে ওই ব্যক্তিকে আমেরিকা গিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে এবং কমপক্ষে ১০জন আমেরিকানকে চাকুরি দেয়ার সামর্থ্য থাকতে হবে। ইবি-৫ ক্যাটাগরিতে ভিসা পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় ৪ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।

শেখ সাবিহা বলেন, রোজিনা ইসলাম ইবি-৫ ক্যাটাগরি অনুযায়ী আমেরিকায় নাগরিকত্ব লাভের চেষ্টায় ছিলেন। এজন্যই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ফাইল আটকিয়ে কয়েক কোটি টাকা জমিয়েও ফেলেছেন। এর আগে নৌ মন্ত্রণালয়ে এরকম কাজের জন্য তিনি ধরা পরেছিলেন। এজন্য নৌ মন্ত্রণালয়ে আর যেতে পারেন না রোজিনা। এবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফাইল চুরি করে কর্মকর্তাদের জিম্মি করে রোজিনা তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠুকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু এর আগেই ধরা পড়ে যান।

নিজের স্বপ্ন পূরণে এরকম অনৈতিক কাজের আশ্রয় নেওয়া একজন সাংবাদিকের কাজ হতে পারে না উল্লেখ করে সাবিহা আলম বলেন, রাষ্ট্রীয় গোপন নথি চুরি করে রোজিনা অমার্জনীয় অপরাধই শুধু করেননি, সাংবাদিকদের নৈতিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার এরকম কাজের জন্য গোটা সাংবাদিক সমাজ আজ লজ্জিত।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি