বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১



আর কতো মুচলেকা দিবে রোজিনা ইসলাম?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.05.2021

নিউজ ডেস্ক : সরকারি গোপন নথি চুরি করে ধরা খাওয়ার পর তার পক্ষে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সংগঠিত হয়। চক্রটি দাবি করে আসছে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম নির্দোষ। অথচ ধরা খাওয়ার পর অপরাধ স্বীকার করে রোজিনা ভুল করেছি বলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং সে সময়ে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাবারও চেষ্টা চালায় রোজিনা ইসলাম।

প্রশ্ন হচ্ছে আর কতো মুচলেকা দিবে রোজিনা। এর আগে, রোজিনা ইসলাম নৌ মন্ত্রণালয়ের ডকুমেন্ট চুরি করে ধরা পড়েছিলেন এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি চুরি করেও মুচলেকা দিতে হয় তাকে।

এতো কিছুর পরও একটি পক্ষ রোজিনাকে বাঁচাতে তৎপর। বোঝাই যাচ্ছে, উক্ত পক্ষের স্বার্থ উদ্ধারেই কাজ করতো রোজিনা। আজ যেহেতু তাদের আঁতে ঘা লেগেছে, তাই তারা চোর রোজিনা ইসলামকে বাঁচাতে চাইছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজেও প্রমাণিত হয়েছে রোজিনার নথি চুরির বিষয়টি।

যেখানে দেখ যায়, প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের পিএসএর রুমে প্রবেশ করে। সে সময় পিএস অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে সচিবের রুমে ছিলেন।

আট মিনিট পর সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা কৌতূহল বসত পিএসএর রুমে প্রবেশ করলে রোজিনা ইসলামকে পিএসএর টেবিলে রাখা নথিপত্রের ছবি তুলতে দেখেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু নথি লুকিয়ে রাখার ব্যাপারে সন্দেহ করেন। এ বিষয়ে রোজিনা ইসলামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন এবং সে রুম থেকে বেরিয়ে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশের দুইজন সদস্য তাকে অনুসরণ করে তৃতীয় তলা থেকে আটক করে পিএসএর রুমে ফিরিয়ে আনেন।

রোজিনা ইসলামের ফোন ঘেঁটে নথিপত্র চুরির করার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে সচিবের রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মোবাইল ফোন চেক করে নথিপত্র চুরির করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলে রোজিনা ইসলামকে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হতে দেখা যায়।

একজন কর্মকর্তা রোজিনা ইসলামের শরীরে কিছু রয়েছে কিনা জানতে চাইলে রোজিনা ইসলাম দৌড়ে গিয়ে পিএসএর রুমের বাথরুমে ঢুকে নিজের শরীরে থাকা ডকুমেন্টগুলো ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এসব বিষয় প্রমাণ করে রোজিনা ইসলাম চোর। এরপর সমালোচনাকারীরা, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গলা চেপে ধরার একটি ফুটেজ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করে। যেখানে তারা দাবি করেন রোজিনার গলায় হাত দিয়ে রেখেছেন অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেছা।

মূলত সরকারি সচিবকে বিতর্কিত করে নিজেদের ফায়দা লুটার চেষ্টা করছিলো ষড়যন্ত্রকারীরা। অতঃপর জানা যায়, রোজিনার গলায় হাত দিয়ে রাখা নারীটি অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেছা নয়। কারণ সেদিন জেবুন্নেছা সালোয়ার কামিজ পড়ে আসেননি। অন্য এটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় তিনি সেদিন সায়ান রঙের শাড়ি পরেছিলেন।
অথচ ষড়যন্ত্রকারীরা সালোয়ার পরা ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিব জেবুন্নেছা বানিয়ে দিলেন।

করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়ার ব্যাপারে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে বাংলাদেশের। সঙ্গে টিকা না পাওয়া দেশগুলো টিকা প্রদানকারী দেশ থেকে টিকা সংগ্রহের জন্য তোড় জোর চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের নথি উক্ত দেশগুলোর হাতে পৌঁছে গেলে তারা বাংলাদেশকে টপকিয়ে আগে টিকা নিতে সক্ষম হবে। আর এ কারণে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএস বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথি হাতিয়ে নিতে দু’মাস আগে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সাথে চুক্তিতে বসেন। উক্ত চুক্তিতে রোজিনা ৫’শ কোটি টাকার বিনিময়ে দেশের গোপন নথি আইএসকে সোপর্দ করে দিতে পারবে বলে আশ্বস্ত করেন। যার পরিকল্পনা মাফিক রোজিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নথির ছবি তুলেছেন বলে জানতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

উল্লেখ্য, পেশায় সাংবাদিক হলেও রোজিনার টাকা পয়সার অভাব ছিলো না। মাত্র ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করেও তার ঢাকার খিলগাঁও ও ধানমন্ডি ১৫ তে দুটি ৭ তলা বাড়ি ও বনানীতে আড়াই কোটি টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে তার। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী আবদুল মান্নানের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে রোজিনা নিজের এবং তার স্বামীর নামে রাজউকের কাছ থেকে পূর্বাঞ্চলে একটি ৫ কাঠার প্লট এবং অন্যান্য দুটি প্লট পেয়েছিল।

ফলে চৌর্যবৃত্তি করা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে দেশের মানুষের নতুন করে চিনতে হবে। জানতে হবে তার আসল চরিত্র সম্পর্কে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি