শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১



যে কারণে মুখ থুবড়ে পড়লো বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
22.05.2021

নিউজ ডেস্ক : রাজনীতিতে বিএনপি ক্রমশই সংকুচিত হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন খবরও চাউর হয়েছে যে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যেতে পারে বিএনপি। মূলত বারবার ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই কাল হলো বিএনপির।

চিহ্নিত যে ভুলগুলোর কারণে বিএনপি আজ ধ্বংসের পথে-

১. বিএনপির রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ভুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যে ৫ টি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল সবগুলোতে বিএনপি জয়লাভ করেছিল। সেখান থেকে বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না সেই সিদ্ধান্ত ছিল আত্মঘাতী, বিস্ময়কর এবং বিএনপির এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় ভুল।

২. ২০১৫ সালে সরকারের বর্ষপূর্তির প্রতিপাদে বিএনপির লাগাতার অবরোধ, ধর্মঘট। একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল কিভাবে এরকম রাজনৈতিক হটকারী সিদ্ধান্ত নিতে পারে সেটি ছিল একটি অবাক এবং বিস্ময়কর ব্যাপার। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি কিন্তু আজও সেই অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। যার কারণে বিএনপিকে এবারো মূল্য দিতে হয়েছে। বিএনপি এই অবরোধ, হরতাল, ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ এবং বোমাবাজির কারণে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং বিএনপিকে মনে করা হয়েছে বিএনপি একটি সন্ত্রাসী দল।

৩. যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রেক্ষাপটে সারা দেশে যুদ্ধাপরাধী বিরোধী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জাগরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গণজাগরণ মঞ্চ এবং তরুণ সমাজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করছে এবং তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে স্বাগত জানিয়েছে। আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কারণেই তরুণ প্রজন্মের একটি বিরাট অংশ আওয়ামী লীগের পক্ষে। কিন্তু বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামাত ইসলামের সঙ্গে গাঁটছড়া বেধেছিল সেই ২০০১ থেকে। এখনো সেই গাঁটছড়া ত্যাগ করেনি। এজন্যই জামাতের পাশাপাশি বিএনপিকে একটি মৌলবাদী যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে মনে করা হয়। রাজনীতিতে এটা বিএনপির জন্য এটা একটা বড় ধাক্কা।

৪. বিএনপি তার ২০ দলীয় ঐক্যফ্রন্ট রেখে আবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে। যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন সারাক্ষণ বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন। যেটা বিএনপির আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যার ফলে আওয়ামী বিরোধী ভোটব্যাংক হোঁচট খেয়েছে এবং বিএনপি থেকে বিমুখ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে বিএনপি শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। আদর্শ বলতে কিছু নেই। এটা বিএনপির রাজনীতিতে আরেকটি বড় ভুল।

৫. ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় তারেক রহমান বিএনপির সবচেয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন এবং শুধু দেশে নন বিদেশেও তারেক রহমানকে জঙ্গিবাদের মদদদাতা ও দুর্নীতিবাজ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া যখন গ্রেপ্তার হলেন তখন তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হলো। তারেক রহমানের এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করাটাকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে কেউই সমর্থন করেনি। তারেক রহমানের মত দুর্নীতিবাজ ও জঙ্গিবাদে মদদদাতাকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করাটা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে কেউই গ্রহণ করেনি। তার মতো একজন দুর্নীতিবাজ ও শীর্ষ সন্ত্রাসী , জঙ্গিবাদে মদদদাতা যখন একটি দলের শীর্ষ পদ দখল করেন তখন সাধারণ মানুষের হতাশা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন এটি হলো বিএনপির রাজনীতির আরও একটি বড় ভুল।

৬. ২০১৬ সালে অসুস্থ, অথর্ব কিছু লোককে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিএনপি। বিএনপির যে নীতি নির্ধারণী সংস্থা সেটির অর্ধেক পদ এখন খালি। এদের মধ্যে আবার অর্ধেক অসুস্থ না হয় রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। স্থায়ী কমিটি হলো দলের হৃদপিণ্ডের সমান। দলের নীতি নির্ধারকরাই যখন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নেন সেই দলের ভবিষ্যৎ কি হতে পারে তা সকলেরই জানা।

৭. ভারতের ব্যাপারে দোদুল্যমান নীতি। বিএনপির একটি অংশ ভারত বিরোধিতা করে, অন্য একটি অংশ ভারত বিরোধিতা করতে চায়। বিএনপির এই দোদুল্যমান ভারত নীতি আন্তর্জাতিকভাবে বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে বিতর্কিত করেছে। ভারতের ব্যাপারে বিএনপির একটি সুস্পষ্ট অবস্থান থাকা উচিৎ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

৮. দুর্নীতিবাজদের লালন। ২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন আসার পরে বিএনপিতে যারা চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত ছিল, যারা কোটি কোটি টাকা লুণ্ঠন এবং দুর্নীতি করেছিল বিএনপি তাদেরকেই দলে রেখেছে এবং ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে এদের অধিকাংশই মনোনয়ন পেয়েছে। দুর্নীতিবাজদের রাজনীতিতে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়াকে বিএনপির রাজনীতির একটি বড় ভুল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।

মূলত এইসব রাজনৈতিক ভুলের কারণেই বিএনপি ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে এবং এই ভুলগুলো শোধরাতে পারছে না বলেই বিএনপি ক্রমশ বিলুপ্ত একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হচ্ছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি