শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » সাংবাদিকতার আড়ালে গোপন তথ্য বিক্রি করতেন রোজিনা



সাংবাদিকতার আড়ালে গোপন তথ্য বিক্রি করতেন রোজিনা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
23.05.2021

নিউজ ডেস্ক: প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম এই মুহূর্তে একটি আলোচিত নাম। সুশীল সমাজ রোজিনাকে হিরো বানানোর চেষ্টা করছে, রোজিনা আসলে তা না। আবার প্রশাসন তাকে যেভাবে দেশবিরোধী ভিলেন বানাচ্ছে, রোজিনা আসলে সেটাও না। তাহলে সত্যিটা কী?

সাংবাদিক রোজিনা মূলত কর্পোরেট কোম্পানির কাছ থেকে টাকা পান, তাই তাদের চাহিদামতো টিকা সংক্রান্ত তথ্যগুলো আগাম সরবরাহ করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সেই গোপন নথিটি চুরি করতে গিয়েছিলেন।

সাংবাদিকতার পরিচয়ে মন্ত্রণালয়ে ঢুকে কর্পোরেট কোম্পানির দালাল হিসেবে এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে অর্থ উপার্জন করার জন্য এটি করেছেন তিনি।

এসব তথ্য উঠে এসেছে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়া রোজিনার গোপন নথি চুরি মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার তদন্তে।

এই বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, ‘যে কোম্পানিগুলো ভ্যাকসিন উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে, তাদের কাছে এই নথির মূল্য কোটি টাকা। বিশেষ করে যারা চীনের ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, সে সব কোম্পানির কাছে এই নথিতে থাকা তথ্যগুলো মূল্যবান এবং রাাষ্ট্রের জন্য তা গোপনীয়।

রোজিনা তার এক বা একাধিক ক্লায়েন্টের কাছে আগাম তথ্য সরবরাহের জন্যই নথি চুরি করার চেষ্টা করেছেন। যোগ করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিনিয়র কর্মকর্তা।

সেদিন রোজিনা ধরা পড়ার পর তাকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, কিন্তু রোজিনা অ্যারোগেন্সি দেখিয়ে এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যায় এবং একেকবার একেক রকম উত্তর দিয়েছেন।

এই কর্মকর্তা সেদিনের ঘটনার একটি সিসিটিভি-ফুটেজ দেন সাংবাদিকদের। সেখানে দেখা যায়, রোজিনা প্রথমে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ধরা পড়ার পর ভুল স্বীকার করেন এবং মুচলেকা দিয়ে মীমাংসা করার প্রস্তাব দেন।

অনুমতি ছাড়া সচিবের ব্যক্তিগত সহকারীর অনুপস্থিতিতে তার কক্ষে ঢুকে সরকারি নথি ঘাঁটা শুরু করেন রোজিনা ইসলাম। সেখান থেকে একটি ৬২ পৃষ্ঠার ফাইল খুঁজে বের করেন তিনি।

ফাইলটিতে ছিল- বিদেশি ফর্মুলা অনুসারে দেশে করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য কয়েকটি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য। কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি এর অনুমোদন চাইলেও, তিনটি কোম্পানিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বাকিরা পরবর্তী ধাপে। এর বাইরে আরো কমপক্ষে দুটি কোম্পানি রয়েছে, যারা যৌথভাবে চীনের ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে চেয়েছে। এ নিয়ে বেশ দৌড়ঝাঁপ চলছে। তাই দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে এই নথির মূল্য অনেক।

এদিকে যৌথভাবে টিকা উৎপাদনের জন্য এখন পর্যন্ত শুধু একটির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেটি হলো রাশিয়ার করোনা ভ্যাকসিন স্পুটনিক এবং বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানি ইনসেপ্টা ফার্মার মধ্যে। চীনের সঙ্গে টিকার চুক্তির বিষয়টি বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ইনসেপটা-স্পুটনিক ভ্যাকসিন চুক্তিটি বিকাশমান হওয়ায়, তা বানচাল করার জন্য উঠে পড়ে লাগে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি