শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



ভেস্তে গেল জামায়াত ত্যাগের উদ্যোগ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.05.2021

নিউজ ডেস্ক: জামায়াতকে দূরে ঠেলে দিতে বিএনপির একটি অংশ অনেক দূর অগ্রসর হলেও স্থায়ী কমিটির এক নেতার বাধার কারণে ফের ভেস্তে গেছে দলটির সেই উদ্যোগ।

সর্বশেষ গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেয়া এমন একটি সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেয়া স্থায়ী কমিটির এক নেতা জানান, বিগত কয়েক মাস ধরেই বিএনপিতে জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের বিষয়ে নানা রকম গুঞ্জন চলছে। দলের একটি অংশ এ বিষয় নিয়ে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একজন সদস্যের প্রতিবাদে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

জানা গেছে, এমন সিদ্ধান্তের মূল কারণই ছিল জামায়াতকে বিএনপির কর্মসূচি থেকে পৃথক করা বা দূরে রাখা এবং এভাবে আস্তে আস্তে জোট ভেঙে দিয়ে নতুনভাবে বৃহত্তর ঐক্যের প্রেক্ষাপট তৈরি করা। ওই দিন ভার্চুয়াল বৈঠকে জামায়াতকে দূরে রাখার এমন কৌশলে সম্মতি দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তার এমন সিদ্ধান্তে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বৈঠকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। তাহলে তো কাজ হয়েই গেল।’ অর্থাৎ জামায়াতকে পৃথক করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তারা সেদিন বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেন। কিন্তু গত ২৭ মার্চ ২০ দলীয় জোটের যৌথ বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। এর অর্থ হলো- জামায়াত বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটেই আছে। ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। শুধু তা-ই নয়, বিএনপির দলীয় প্যাডে ওই বিবৃতি গণমাধ্যমে পাঠান তিনি।

জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে দুই দিন ধরে বিএনপিতে তোলপাড় চলছে। কারণ স্থায়ী কমিটির প্রায় সব সদস্যই পরের দিন অর্থাৎ ২৮ মার্চ গণমাধ্যমে ওই বিবৃতি দেখে ক্ষুব্ধ হন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে লন্ডনে তারেক রহমানকে জানানো হয়। তিনি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র একাধিক সদস্যকে এ ঘটনা সঠিকভাবে জেনে পরিস্থিতি নিষ্পত্তি করতে বলেছেন।

পাশাপাশি একাধিক সদস্যকে তিনি বলেন, এটি পুরোপুরি দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। সিনিয়র নেতারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কাজ করলে তিনি কাকে বিশ্বাস করবেন?— নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারেক রহমান এমন প্রশ্নও তোলেন বলে জানা যায়।

এদিকে ঢাকায় সিনিয়র নেতারা ওইদিন টেলিফোনে নিজেদের মধ্যে আলাপকালে এ ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেন। কেউ কেউ এমনও বলেন যে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত এভাবে উল্টে দিলে আলোচনা বা রাজনীতি করেই লাভ কী? বেশ কয়েকজন নেতা তারেক রহমান এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বিষয়টি জানান। তবে এমন ঘটনায় ফখরুলও অন্যদের মতো বিস্মিত ও বিব্রত হন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো থেকে জানা যায়।

উল্লেখ্য, মহাসচিব এ প্রশ্নে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। একই কারণে কথা বলতে রাজি হননি দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্বীকার করেন, ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলোর বিবৃতি পৃথকভাবে দেয়ার সিদ্ধান্তই হয়েছিল। কিন্তু নজরুল ভাই হয়তো অর্গানাইজ করতে পারেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির আরেকজন নেতা বলেন, ওই ঘটনায় নজরুল ইসলাম খানের কিছু কারিগরি তো আছে। তারও নানাভাবে ম্যানেজ করে চলতে হয়। তবে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে কীভাবে যৌথ বিবৃতি গণমাধ্যমে গেল সে প্রশ্ন এড়িয়ে যান নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে, সেটি দলের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে জানানো হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি সেটি জানাতে পারি না।

উল্টো প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পৃথক বিবৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত ২০ দলীয় জোটের মধ্যে হয়েছে? হয়নি তো। আর বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে হলে সেটি আমি বলতে পারব না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০ দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে আলাপ করে বিবৃতির বিষয়ে শুধু তাদের মতামত নেন নজরুল ইসলাম খান। কাউকে পৃথকভাবে বিবৃতি দেয়ার কথা তিনি বলেননি। যৌথ বিবৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নজরুল ইসলাম খান এককভাবে নেন বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিককালে জামায়াতের ব্যাপারে তার ‘বিশেষ দুর্বলতা’ নিয়ে বিএনপির ভেতরে-বাইরে অনেক আলোচনা আছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি