বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১



পূর্বাচলে রোজিনার প্লট দখলের নেপথ্যে যা ছিল


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
25.05.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: একের পর মানুষের সাথে প্রতারণা করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি। সাধারণ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে করেছেন অর্থ আদায়। সাংবাদিকতা পেশার আড়ালে যিনি ছিলেন একজন সম্পদ লুণ্ঠনকারী। তিনি আর কেউ নন তিনি প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম।

সূত্র বলছে, অপসাংবাদিকতার শুরুটা হয়েছিল রোজিনার শিক্ষা জীবন থেকেই। তিনি সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে নানা অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন করে একরকম স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন উপভোগ করতে থাকেন।

জানা যায়, রোজিনা ইসলাম রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায়ও বাগিয়েছেন দুইটি প্লট। ২০১২ সালে সাংবাদিক শ্রেণিতে নিজের নামে ৫ কাঠার প্লট নেন তিনি। সরকারি আবাসিক এলাকায় একজন ব্যক্তির জন্য একের অধিক প্লট নেওয়ার নিয়ম না থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠুর নামেও আরেকটি প্লট বাগিয়ে নিয়েছেন রোজিনা ইসলাম।

জানা গেছে, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান রোজিনা ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৫ ব্যাচের সাংবাদিকতার ছাত্রী ছিলেন। ২০০৪ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর প্রথম আলোয় কাজ শুরু করেন। প্রথম আলোয় কাজ করাকালীন পত্রিকার নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে উপার্জন শুরু করেন রোজিনা ইসলাম।

রোজিনার সহকর্মী শেখ সাবিহা আলম বলেন, রোজিনা ইসলাম শুরু থেকেই একটু উচ্চাভিলাষী। প্রথম আলোয় আসার পর থেকে দেখেছি, যেসব সেক্টরে নানা অনৈতিক অর্থলাভের সম্ভাবনা আছে সেই জাতীয় কাজে যুক্ত হতেন। সম্পাদক কাজের পছন্দের ক্ষেত্র জানতে চাইলেই বলতেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কথা। এসব জায়গায় সারা বছর কোটি কোটি টাকার প্রকল্প চলে। এক শ্রেণির অসাধু সরকারি কর্মকর্তা কিছু সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করে এসব প্রকল্পে দুর্নীতি করে থাকেন। যাতে দুর্নীতির খবর বাইরে না যায় সেজন্য সাংবাদিকদের ঘুষ দিতেন ওই অসাধু কর্মকর্তারা। রোজিনা এই সুযোগ নিয়ে কর্মকর্তাদের ফাঁসিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন।

শেখ সাবিহা আলম বলেন, এর আগে নৌ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও ফাইল হাতিয়ে কর্মকর্তাদের জিম্মির চেষ্টা করেন রোজিনা। ফলে মন্ত্রণালয় দুটিতে রোজিনার ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়। এবার করোনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেটের কাজ শুরু হয়। এরপর রোজিনা নিজেই সম্পাদককে জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করবেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যেয়ে কয়েক দিনের মধ্যে কিছু ফাইল হাতিয়ে কর্মকর্তাদের জিম্মি করতে শুরু করে। সেখানে কয়েক কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করে সে। এরপর প্রভাব খাটিয়ে আর স্বামীকেও কয়েকটা কাজের টেন্ডার বাগিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তার এই অপতৎপরতার কথা জানাজানি হলে তাকে ধরে ফেলা হয়। দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারেও সাজা খাটেন রোজিনা। এরপর তো তার অতীতের নানা খবর বের হয়ে আসতে থাকে, সেসব সবাই জানে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বাংলা নিউজ ব্যাংককে বলেন, রোজিনা ইসলাম ২০১২ সালে সাংবাদিক শ্রেণিতে নিজের নামে ৫ কাঠার প্লট নেন। এরপর শুনেছি ২০১৪ সালেও প্রভাব খাটিয়ে তার স্বামীর নামে আরও একটি প্লট বাগিয়েছেন তিনি। যদিও সরকারি প্রকল্পে একজনের একটির বেশি প্লট নেওয়ার নিয়ম নেই।

সূত্র জানায়, পূর্বাচলে একটি প্লট থাকার পরে আরেকটি প্লট বাগাতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ এক কর্মকর্তাকে ফাঁসান। ছাত্রজীবনে বুয়েট ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা ওই কর্মকর্তা রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে প্লট দেওয়ার নামে কিছু ব্যক্তির কাছে মোটা অঙ্কের টাকা নেন। এই খবর পেয়ে রোজিনা ইসলাম ওই কর্মকর্তাকে হুমকি দেন, যদি তাকে আরেকটি প্লট না দেয়া হয় তাহলে কর্মকর্তার দুর্নীতি ফাঁস করে দেবেন তিনি। দুর্নীতিবাজ ওই কর্মকর্তা ভয় পেয়ে রোজিনার স্বামীরা নামে আরেকটি প্লটের ব্যবস্থা করে দেন।

জানা গেছে, শুধু পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে নয়, উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পের একইভাবে প্লট বাগিয়েছেন রোজিনা ইসলাম। এভাবে ঢাকা শহরে প্লট, বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন রোজিনা ইসলাম।

সাংবাদিক নেতা শাবান মাহমুদ বলেন, এই ঘটনা সত্য হলে বিষয়টি খুবই লজ্জাজনক। একজন সাংবাদিক যদি কোন সরকারি কাজে দুর্নীতির খবর পান তাহলে তার কাজ ওই বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে আনা। তিনি ওই কর্মকর্তার দুর্নীতির সংবাদ করার বদলে সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে নিজে যদি প্লট নিয়ে থাকেন তাহলে তিনি নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

তার এসব অপকর্ম এবং অবৈধ সম্পদের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সহকর্মীসহ সাংবাদিক মহলে কানাঘুষা চলছে। অনেকেই বলছেন, রোজিনা ইসলাম যেভাবে সাংবাদিকতাকে নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করেছেন এতে করে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি