শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



খালেদার মুক্তি নিয়ে আর কতো নাটক করবে বিএনপি?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
27.05.2021

নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে বিএনপি, খালেদা জিয়ার পরিবার এবং তারেক রহমান ত্রিমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তিনটি পক্ষের পরস্পর বিরোধী অবস্থান ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বেগম জিয়ার পরিবার যেকোনো মূল্যে তার মুক্তির পথে এগুচ্ছে। অন্যদিকে তারেক রহমান ও দলের অবস্থান স্পষ্ট নয় কর্মীদের কাছে।

অন্যদিকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই খালেদা জিয়ার মুক্তির পথটাকে এখন প্রধান পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে বিএনপি। আর এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে তারেক রহমানের বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে নিরুৎসাহী বলেও কিছু মহল দাবি করছে।

এই তিন পক্ষ রীতিমতো একে অপরকে থামাতে সম্ভাব্য সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও বিএনপিতে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা দলের এমন অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে বর্ণনা করছেন ‘ত্রিমুখী সংঘাত’ হিসেবে।

এই তিন পক্ষে মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার আবার সরব হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার এভারকেয়ারে’র কাছে তার উন্নতর চিকিৎসার জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনে খালেদা জিয়ার উন্নতর চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

তবে এভারকেয়ার কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেগম জিয়ার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে আবার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেয়। এরপর মেডিকেল বোর্ড গত দুই দিনে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। কিন্তু এভারকেয়ারের উপাচার্য বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া যেতে পারে। তিনি এটাও বলেছেন অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট যেটা কিছু বায়োলজিক্যাল ইনজেকশন যেগুলো বঙ্গবন্ধু মেডিকেলেই দেওয়া সম্ভব।

এভারকেয়ার সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার ভাইকে এই বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার এখন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান। সাক্ষাৎ করে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে একটা আবেদন জানাতে চান।

জানা গেছে, আইনজীবীরা বলছেন রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড স্থগিত বা মওকুফের আবেদন করতে হয়। এজন্য তাকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়। কিন্তু জিয়া পরিবারের তরফ থেকে বলা হয়েছে সে রকম কোনো আবেদন তারা করছেন না। বরং রাষ্ট্রপতি যেহেতু রাষ্ট্রের অভিভাবক এবং সাংবিধানিক প্রধান সেজন্য রাষ্ট্রপতির কাছে একজন সিনিয়র সিটিজেনের অসুস্থতার বিষয়টি জানাবেন। আর রাষ্ট্রপতি যেন তার ক্ষমতার ব্যবহার করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করেন সেজন্য অনুরোধ করা হবে।

কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির এমন কোনো ক্ষমতা নেই। রাষ্ট্রপতির কাছে কেউ যদি কেবল ক্ষমা প্রার্থনা করেন তাহলে রাষ্ট্রপতি সেটা বিবেচনা করতে পারেন। কিন্তু তাও সেই ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন যেতে হবে নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে।

কাজেই রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করে কি লাভ হবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একাধিক সদস্য আলাপকালে বলেছেন, তারা বেগম খালেদা জিয়ার ‘সম্মানজনক’ মুক্তির সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করছেন। সেই চেষ্টার অংশ হিসেবে তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী। আর এ ব্যাপারে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি বরাবরে একটি চিঠি দেওয়া হবে বলে বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে এই ধরনের আবেদনের জন্য ঐ দণ্ডের জন্য তাকে অনুতপ্ত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি