শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » কথা বলার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিএনপিতে



কথা বলার লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বিএনপিতে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.05.2021

নিউজ ডেস্ক: একটা সময় ছিল বিএনপি নেতাদের মুখে কথার ফুল ফুটত। সকালে এক নেতা কথা বলছেন তো বিকেলে আরেক নেতা। রাতে আবার অন্য নেতা বলছেন। কথামালার রাজনীতিতেই মুখর ছিল বিএনপি। আর সেই কথামালার রাজনীতির নেতৃত্ব দিতেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। আর এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে বিএনপি`র কথা বলার লোকই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একমাত্র ব্যক্তি যিনি কথা বলছেন। কিন্তু অন্য কোন শীর্ষ নেতাকে কোন ইস্যুতেই কথাবার্তা বলতে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির নেতাদের কেন এই নীরবতা সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, দুটি কারণে বিএনপি নেতারা কথা বলছেন না। প্রথমত, অসুস্থতা। বিএনপিতে যে সমস্ত নেতারা আছেন তারা এখন শারীরিকভাবে অসুস্থ, শয্যাশায়ী। সেজন্য তারা চাইলেও কথা বলতে পারছেন না।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রুহুল কবির রিজভী কথামালার রাজনীতিতে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন কিন্তু এখন তিনি অসুস্থ থাকার কারণে কোন বক্তৃতা বিবৃতি দিতে পারছেন না। আর এ কারণেই বিএনপির রাজনীতিতে শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

বিএনপিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও কথা বলতেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও করোনায় আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ। তিনিও রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এখন আর নেই। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বিভিন্ন ইস্যুতে সরব থাকতেন। তাঁর মৃত্যুর পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে সেই শূন্যতা এখনো পূরণ হচ্ছে না বলেই স্বীকার করেন বিএনপির অনেক নেতারা।

কারণ তিনি অনেক সময় যুক্তিনির্ভর কথাবার্তা বলতেন। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সরকারের বিভিন্ন ইস্যুর যৌক্তিক সমালোচনা করতেন। যেহেতু তার জাতীয় পর্যায়ে একটি ইমেজ আছে, তার কথাগুলো গণমাধ্যমে স্থান পেত। এছাড়াও বিএনপির আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলতেন কিন্তু তাকে এখন তেমন কথাবার্তা বলতে দেয়া হচ্ছে না। এইতো গেলো অসুস্থতার জন্য নীরবতা।

আর অনেক নেতা আছেন যারা বিভিন্ন সময় সরব ছিলেন তারা এখন হতাশ হয়ে কথা বলছেন না। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন হতাশ নয়, বিরক্তের কারণেই তারা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছেন। ভুল রাজনীতি এবং বিভ্রান্তিকর কর্মসূচির কারণে এই সমস্ত নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর বিরক্ত। আর এই বিরক্তির কারণ থেকে তারা নিজেদেরকে ক্রমশ গুটিয়ে নিচ্ছেন। যারা বিএনপিতে সরব ছিলেন তাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস ছিলেন অন্যতম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মির্জা আব্বাসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।

ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন সেই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে স্থায়ী কমিটির একজন নেতা হয়েও তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশ পান। এটিতে তিনি হতাশ হয়েছেন এবং এই নোটিশ পাওয়ার পরপরই নিজেকে তিনি মোটামুটি গুটিয়ে নিয়েছেন। তারপর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না। কোন বক্তৃতা বিবৃতিতে তিনি সরব নন।

বিএনপির আরেক নেতা ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনিও এখন হতাশ। একদিক থেকে খালেদা জিয়ার তথাকথিত মুক্তির জন্য বেগম জিয়ার পরিবারের আবেদন নিবেদন, অন্যদিকে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে টানাহেঁচড়া। এই দুটি কারণে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।

কারণ গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সবসময় মনে করতেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার আপোষে এইভাবে মুক্তি পাওয়া উচিত হয়নি। তার মুক্তির জন্য আন্দোলনই ছিল সবচেয়ে বড় উপায়। কিন্তু বিএনপির এই আপষকামীতা তিনি মেনে নিতে পারেননি বলেই তিনি নীরবতা অবলম্বন করছেন।

এছাড়াও বিএনপির মাঝারি সারির নেতাদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল সহ যারা আছেন তারা এখন নিজেদেরকে গুটিয়ে রেখেছেন। তবে রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বিএনপির ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে রুহুল কবির রিজভীর অসুস্থতার পর সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত এমরান সালেহ প্রিন্সকে দলের দাপ্তরিক দায়িত্ব দেওয়াও দলের মধ্যে হতাশার আরেকটি বড় কারণ বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এই সবকিছু মিলিয়ে এখন অবস্থাটি এমন দাঁড়িয়েছে বিএনপিতে এখন কথা বলার লোক পাওয়াই যেন দুষ্কর হয়ে গেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি