শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১



ইস্যুর পেছনে ছুটতেই ক্লান্ত বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.05.2021

নিউজ ডেস্ক: একের পর এক ইস্যু আসে ইস্যু যায়। বিএনপি ইস্যু দেখলেই উৎসাহিত হয়, উত্তেজিত হয় কিন্তু আবার ইস্যু মিলিয়ে গেলে হতাশ হয়ে যায়। বিএনপি`র এখন নিজস্ব কোনো কর্মসূচি নেই। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে একটি করে পরিস্থিতি যখন তৈরি হয় সেই পরিস্থিতি থেকে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে বিএনপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার যখন পরিস্থিতির লাগাম টেনে ধরে তখন বিএনপি হতাশ হয়। এই ইস্যুর পেছনে ছুটতে ছুটতেই বিএনপি ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি করতে গিয়েই বিএনপি তার মূল লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবেই অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে বিএনপি।

গত কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে বিএনপি। বিএনপি`র জন্য এ বছরের প্রথম ইস্যু ছিল আল-জাজিরার প্রতিবেদন `অল প্রাইম মিনিস্টার্স মেন`। এই প্রতিবেদনের পর বিএনপি নেতাদের মুখে খই ফুটেছিল। তারা এটি নিয়ে কিছু একটা করে ফেলার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু আল-জাজিরা প্রতিবেদন বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এই প্রতিবেদনের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো যখন ধরিয়ে দিয়েছে তখন বিএনপি নিজেরাই হতাশ হয়ে পড়েছে এবং এই ইস্যুটি মাঠে আর জীবিত না থাকায় বিএনপিও সরে এসেছে।

বিএনপি`র সামনে দ্বিতীয় ইস্যু ছিল হেফাজতের আন্দোলন। এই ইস্যুতে বিএনপি খুবই উল্লাসিত ছিল। বিশেষ করে ২৬ এবং ২৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সময় হেফাজত ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে তাণ্ডব করেছিল তারপর বিএনপি বেশ চাঙ্গা হয়েছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, এই সমস্ত তাণ্ডবের পেছনে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও হাত ছিল। এরপর বিএনপি বিভিন্ন জেলায় নানারকম কর্মসূচি দিতে থাকে।

হেফাজতের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন বিএনপির নেতারা। কিন্তু তারপর যখন হেফাজত ধরপাকড় এর মুখে কোণঠাসা হয়ে পরে বিএনপি লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। বিএনপির পক্ষ থেকে প্রথমে হেফাজতকে সমর্থন দেওয়া হলেও পরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে, হেফাজতের সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। এখন ২০১৩ সালে যে হেফাজতের তাণ্ডব সে ব্যাপারে তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে, বিএনপি এবং হেফাজত যৌথভাবে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিল।

বিএনপি`র এ বছরের তৃতীয় ইস্যু ছিল রোজিনা ইস্যু। রোজিনা ইস্যুতেও বিএনপি মনে করেছিল এই ইস্যু ক্রমশ দীর্ঘায়িত হবে। সরকার জামিনের ব্যাপারে অনড় অবস্থানে থাকবে। সাংবাদিক সমাজ রাজপথে যাবে এবং আরও কঠিন কর্মসূচি দেবে। আর এখান থেকে ফল কুরোবে বিএনপি। কিন্তু গত রোববার রোজিনার জামিন হয়ে যাওয়ার পর সাংবাদিকরা এ নিয়ে আর উৎসাহিত নয়। ফলে রোজিনা ইস্যুটিও বিএনপিকে আরেকবার হতাশায় ডুবিয়ে মিলিয়ে গেছে।

বিএনপির সামনে সর্বশেষ ইস্যু এসেছিল ইজরায়েল ইস্যু। এই ইস্যু নিয়ে বিএনপি কিছু একটা করে দেখানোর আশা পোষণ করেছিল। তাই পাঁচ মাস আগের ঘটনা যখন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলো যে পাসপোর্ট থেকে একসেপ্ট ইসরায়েল কথাটা বাদ দেয়া হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নিয়ে কথা বলতে একমূহূর্ত বিলম্ব করেনি। তিনি আকস্মিকভাবে ফিলিস্তিনের বন্ধু সেজে বক্তৃতা বিবৃতি দেওয়া শুরু করলেন।

কিন্তু পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানিয়ে দিলেন, এ ব্যাপারে তাদের আগের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো বাংলাদেশিদের জন্য ইসরায়েলে যাওয়া নিষিদ্ধ। ফলে আরেকবার হতাশ হতে হলো বিএনপিকে। এই ইস্যুটিও শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকল না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, একটি করে ইস্যু এলে সেটির পেছনে ছোটার চেয়ে বিএনপিকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং অভিপ্রায় ধারণ করে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে এগুতে হবে। গত এক যুগে বিএনপির আন্দোলনের মূল বিষয়গুলো ছিল তাদের নেতা এবং পরিবারকেন্দ্রিক। কখনই তারা জনগণের ইস্যু নিয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক জিয়ার মুক্তি, তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিল ইত্যাদির ব্যক্তিগত ইস্যুর কারণে বিএনপি থেকে জনগণ ক্রমশ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন আবার নিত্যনতুন ইস্যুর পেছনে ছুটতে ছুটতে বিএনপি এক দিকভ্রান্ত রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হচ্ছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি