শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » ‘এলএসডি’র নেশায় বিভোর বিএনপি, খালেদার মুক্তি আন্দোলনের সময় কই!



‘এলএসডি’র নেশায় বিভোর বিএনপি, খালেদার মুক্তি আন্দোলনের সময় কই!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
29.05.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সুবিধাবাদিতা, টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যাওয়া, নিজেদের আখের গোছানোসহ নানা কারণে খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে বলে এতদিন জানা গেলেও এবার নতুন কারণ জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিএনপির নেতারা ‘এলএসডি’ খেয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা ভুলে গেছে। বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে তারা এলএসডি খায়নি। তা না হলে তারা আত্মহত্যা করেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশিরভাগই ‘এলএসডি’র নেশায় আসক্ত বলেও জানান বিএনপির বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রাজনৈতিক সংকট উত্তরণ কোন পথে’ শিরোনামে বাংলাদেশ লেবার পার্টির এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ কথা বলেন।

বিএনপি–সমর্থক পেশাজীবী নেতা হিসেবে পরিচিত জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এখন বিএনপিকে দেখলে মনে হয় তাদের নেতারা ‘এলএসডি’র নেশায় বিভোর হয়ে থাকেন। বিএনপি এখন সত্য কথা বলতে ভয় পায়।’

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে অনেক পুরোনো একটি মাদক ‘এলএসডি’র সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) একটি ভয়াবহ মাদক। বিএসএমএমইউ এর প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. জিল্লুর রহমান জানান, এলএসডি গ্রহণের ফলে ব্যক্তির চোখের সামনে অনেক কিছু ভাসবে তবে সেটির বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই। যেমন সে ঘরে বসে দেখছে রাস্তা দিয়ে হাঁটছে কিংবা উড়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত হ্যালুসিনেশনের কারণে এমনকি আত্মহত্যাও করতে পারে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুদিবসে ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কিন্তু দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কোন কর্মসূচি নাই দলটির নেতাদের। বিএনপির নেতাদের উচিত ছিলো খালেদার মুক্তির জন্য রাস্তায় থাকা। কিন্তু তারা এলএসডি নেশার ঘোরে রয়েছে। ঘরে বসেই আর অনলাইনে আলোচনা সভা করেই ভাবছে আন্দোলন করে ফেলেছে। আসলে তো তারা আন্দোলনে নাই। অতিরিক্ত এলএসডি সেবনের ফলে তাদের এরকম বিভ্রম হচ্ছে বলে জানান ডা. জাফরুল্লাহ।

সূত্র জানায়, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বেশিরভাগই ভয়াবহ মাদক এলএসডি সেবনে অভ্যস্ত। করোনা মহামারির পর তাদের মধ্যে এই আসক্তি আরও বেড়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিয়মিত মাদকটি সেবন করেন বলে জানা গেছে। এই মাদক নেওয়ার ফলেই তারা ঘরে বসে যখন তখন সরকার ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিএনপির নেতারা এলএসডি নেশার ফলে হ্যালুসিনেশনে ভুগছেন। যার কারণে তারা কল্পনার জগতে থাকেন। বিএনপির নেতাদের সারাক্ষণ মনে হয় তারা সরকার ফেলে দিয়েছেন। এলএসডি নেশার ফলেই তাদের এই দশা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, বিএনপি দলটিই নেশাখোরে ভর্তি। তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ফ্রিজ সবসময় বিদেশি মদে ভর্তি থাকে। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো অনিয়ন্ত্রিত মাদক সেবনের কারণে অকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। আর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মদ্যপানের কথা তো সবাই জানে। লন্ডনে তারেকের মদ্যপানের বিল শোধ করেতেই মির্জা আব্বাস আর আবদুল আউয়াল মিন্টুর ফকির হওয়ার দশা। যেই দলের প্রধান এবং তার ছেলেরা নেশাগ্রস্ত, সেই দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও নেশাখোর হবে বলে উল্লেখ করেন বিশ্লেষকরা। এলএসডি নামক এই ভয়াবহ মাদকের নেশায় বিএনপির সিনিয়র নেতারা এতো মশগুল হয়ে পড়ায় নিকট ভবিষ্যতে দলটি খালেদা জিয়ার নামও ভুলে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা।

 



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি