বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১



বেগম জিয়ার অসুখ কি রাজনৈতিক?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.05.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার গায়ে জ্বর আছে এবং ১০০ ডিগ্রি তাপমাত্রা নিয়ে তিনি এভারকেয়ারের সিসিইউতেই অবস্থান করছেন। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এটি নতুন একটি তথ্য দিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু তিনি যে তথ্য দিয়েছেন তার সাথে এভারকেয়ার হাসপাতালের তথ্যের মিল নেই।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এভারকেয়ার হাসপাতালের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি স্বাভাবিক খাবার খাচ্ছেন। তার ফুসফুসের পানি বের করার জন্য যে কৃত্রিম নল ছিল সেটিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি চাইলে কেবিনে যেতে পারেন। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে সিসিইউতে রাখার আবেদন করার প্রেক্ষিতে এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সিসিইউতে রাখছেন। কেন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আবার নতুন করে নাটকীয়তা শুরু হয়েছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেগম খালেদা জিয়াকে কি বিদেশ নেয়ার জন্যই এখন তাকে জোর করে অসুস্থ বানানো হচ্ছে কিনা এই প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে উঠেছে।

উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া গত মার্চে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এরপর থেকে বলা হচ্ছিল যে, বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন, ভালো আছেন, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এমনকি তাকে যখন প্রথমবার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তখন বলা হয়েছিল যে তার সিটিস্ক্যান রিপোর্ট অত্যন্ত ভালো। কিন্তু হঠাৎ করেই তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে সিসিইউ`তে নেয়া হয় এবং ওই অবস্থা থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সিসিইউতেই রয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে সিসিইউতে নেয়ার পরপরই তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার সরকারের কাছে একটি আবেদন করেন। সেই আবেদনে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য তার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। এই আবেদন ওইদিনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনমন্ত্রীর মতামতের জন্য পাঠায়। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে না সূচক মতামত দেয়। তারা বলে যে, দণ্ডিত একজন অপরাধীকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

আইনমন্ত্রী বলেছেন, যে ধারায় অর্থাৎ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় বেগম জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেয়া হয়েছে। সেই ধারাটিই ইতিমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। কাজেই নতুন করে ওই ধারা প্রয়োগের কোন সুযোগ নেই। বেগম খালেদা জিয়াকে অনুমতি না দেওয়ার পর বিএনপি থেকে হতাশা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে বলা হয় যে, বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং সরকার নির্বাহী আদেশে মুক্তি দিয়ে তার চিকিৎসা যেনো যথাযথভাবে হয় সে ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করে নিন। এরপর বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে। কিন্তু এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার যে জ্বর সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছেন সেই তথ্যটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

অনেকেই প্রশ্ন করছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার জন্যই কি তাকে অসুস্থ বানানো হচ্ছে? এরকম একটি পরিকল্পনার গুঞ্জন রয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়া যাবে এই মর্মে একটি চিকিৎসকদের সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্যই এটি করা হচ্ছে। এরকম একটি সার্টিফিকেট পেলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে। ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিএনপি এবং বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মহলে কথা বলা হয়েছিল। তখন তারা বলেছিলেন যে, এটি নির্ভর করবে চিকিৎসকদের ওপর। আর সে কারণেই এখন বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ দেখানো হচ্ছে কিনা সেটিই দেখার বিষয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি