শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



তারেকের চাপেই পিষ্ট বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.05.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। এই মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি ১৫ দিনের কর্মসূচি দিয়েছে। কিন্তু এই কর্মসূচিগুলো কোথায় কিভাবে হচ্ছে সে সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরাই।

তারা মনে করছেন যে, প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকী এরকম অবহেলায় পালন করা বিএনপির ভঙ্গুর রাজনীতিরই একটি বড় প্রমাণ। বিএনপির নেতারাই মনে করছেন যে, ২০০১ সালের আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী অনেক ঘটা করে পালন করা হত।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, এখনো বিএনপি চলে জিয়াউর রহমানের ইমেজে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আমাদের অনেক বড় ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত ছিল কিন্তু সেটি আমরা করতে ব্যর্থ হয়েছি। কেন ব্যর্থ হয়েছি এই উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা জায় মূলত তারেক জিয়ার চাপেই বিএনপি পিষ্ট হয়ে গেছে। এখন বেগম খালেদা জিয়া নামকাওয়াস্তে বিএনপির চেয়ারপার্সন।

দলীয় কোন কর্মকাণ্ডে তার কোন ভূমিকা নেই। দলের অন্যান্য স্থানীয় নেতারাও হাত-পা গুটিয়ে রয়েছেন। দলের মহাসচিবকে দিয়ে দল চালাচ্ছেন আসলে তারেক জিয়া। তারেক জিয়া যেটি বলবেন সেটি প্রতিপালন করাই হলো বিএনপি মহাসচিবের একমাত্র কাজ। এটি অনেকেই রসিকতা করে বলেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসলে বিএনপির মহাসচিব নন, তিনি আসলে তারেক জিয়ার পিএস। তার কথার বাইরে কিছু করার মত সাহস এবং বিচক্ষণতা কোনটাই মির্জা ফখরুল ইসলামের নাই। একারণেই দলের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন ক্রমশ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনপ্রিয় হলেও শুধুমাত্র তারেক জিয়ার আনুকূল্যের কারণে তিনি এখনো বিএনপিতে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর বিএনপি নেতারা বলছেন বিএনপির রাজনীতি এখন খুব পরিষ্কার। তারেক জিয়ার সঙ্গে যার সখ্যতা থাকবে, তারকে জিয়া যাকে চাইবেন তিনি বিএনপির নেতা। তারেক জিয়া যাকে চাইবেন না তিনি দল থেকে বাদ। তারেক জিয়ার এরকম স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিএনপির এই হাল বলে অনেকে মনে করছেন।

বিএনপির নেতারা উদাহরণ দিয়ে বলছেন যে, বিএনপিতে অনেক ত্যাগী, পরিশ্রমী নারী নেত্রী আছেন যারা ত্যাগ স্বীকার করছেন, যারা অনেক ভালো কাজ করেছেন এবং তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা রয়েছে কিন্তু তাদেরকে বাদ দিয়ে রুমিন ফারহানাকে লাইমলাইটে নিয়ে আসা হয়েছে তারেক জিয়ার কারণেই। তারেক জিয়া কোন কৌশলে কিভাবে বিএনপিকে এগিয়ে নিতে চান সে সম্পর্কেও তিনি খোলাসা করে বলেন না। দলের নেতাকর্মীরাও জানেন না যে তারেক জিয়ার লক্ষ্য কি বা বিএনপিকে তিনি কোন পথে নিয়ে যেতে চাইছেন।

বিএনপির নেতারা প্রশ্ন করেছেন যে আমরা উপনির্বাচনে যাচ্ছি না তাহলে জাতীয় নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করলাম কেন? বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, যে কয়টি জায়গায় উপনির্বাচন হচ্ছে তাদের মধ্যে লক্ষ্মীপুরে বিএনপির অবস্থান ঐতিহ্যগতভাবে ভালো। এই নির্বাচনগুলোতে অংশগ্রহণ করলে অন্তত নেতাকর্মীরা সংগঠিত হতে পারত, নির্বাচনকে ঘিরে সংগঠন গোছানো যেতে। সেই লক্ষ্য থেকেই বিএনপি উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করছিল। কিন্তু মাঝপথে আবার উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে।

তারা বলছে যে, তারেক জিয়ার খেয়ালখুশি মতোই সবকিছু চলছে। যখন তার যা মনে হচ্ছে তাই তিনি বিএনপিতে বাস্তবায়ন করছেন। তাকে কোন জবাবদিহিতার আওতায় আনার মতো কেউ নেই। তিনি কোন কাজের জন্যই কারো কাছে কৈফিয়ত করেন না। বিএনপি এখন স্বৈরাচার কায়দায় চলছে বলেও অনেক নেতা মনে করেন। তারেক জিয়াকে প্রশ্ন করা যায় না।

তিনি শুধু বলেন, এটা করতে ওটা করতে হবে। এমনকি এখন যে তার মা অসুস্থ এ নিয়েও বিএনপি কি করবে সে সম্পর্কেও তারেক জিয়া একেকদিন একেকরকম কথাবার্তা বলছেন। বিএনপির কোন কোন নেতা মনে করছেন যে, তারেক জিয়া এক যুগের বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে। তিনি জানেন না, বাংলাদেশে গত ১২-১৩ বছরে কতখানি পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে যে সিদ্ধান্তগ্রহণ সেই জায়গায় বড় ধরনের গলদ রয়েছে। এটি হলো বিএনপির সবচেয়ে বড় সমস্যা।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি