শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১



কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি : কেনো এমন পরিণতি খালেদার?


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
30.05.2021

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির রাজনীতিতে খরা কাটছে না। অপরদিকে দুর্নীতির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে শাস্তি ভোগ করছেন তিনি। রাজপথে আন্দোলন করে নেত্রীকে মুক্ত করা হবে- বারবার বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার আজকের এই অবস্থার জন্য তার বেশকিছু রাজনৈতিক ভুলকে দায়ী করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, অতীতে ওইসব ভুল না করলে আজকের পরিণতি হয়তো খালেদা জিয়াকে বরণ করতে হতো না। এসব রাজনৈতিক ভুলের মধ্যে রয়েছে-

১৯৯১ সালের নির্বাচন পরবর্তী বিভাজন

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিজয়ী হয়েছিল বিএনপি। সে সময় জামায়াতের সমর্থনে তারা সরকার গঠন করে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিন জোটের রূপরেখার অংশ হিসেবেই বিএনপি ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ক্ষমতায় এসে খালেদা জিয়া জাতীয় ঐক্যের বদলে বিভক্তির রাজনীতির সূত্রপাত করেন। এই সময়ে বেগম জিয়া যদি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিতেন এবং সুশাসনের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতেন তাহলে হয়তো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল না করা

১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার সামনে সুযোগ এসেছিল ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে রাজনীতিতে একটি অমরত্বের পথ গ্রহণ করার। কিন্তু তিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল তো করেনইনি, এমনকি ১৫ আগস্টে নিজের ভুয়া জন্মদিন পালন শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কূটনীতিক চাকরিতে পদোন্নতি দেন। সে সময় তিনি যদি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে জাতির পিতার খুনিদেরকে বিচারের আওতায় আনতেন তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।

জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল না করে খালেদা জিয়া যে ভুল করেছিলেন, সেই একই রকম একটি ভুল করেন ২০০১ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতের সঙ্গে জোট করে। দেশে এবং দেশের বাইরে কেউই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে এবং স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রিত্ব দিয়ে তাদের গাড়িতে পতাকা তুলে দেয়। বিএনপির চূড়ান্ত রাজনৈতিক পতনের সূচনা সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল।

২০০১ সালের নির্বাচনে পর প্রতিপক্ষদের ওপর আক্রমণ

২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সশস্ত্রভাবে চড়াও হয় আওয়ামী লীগ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর। যদি ওই সময় বেগম জিয়া হামলা এবং দমন নীতি গ্রহণ না করতেন তাহলে হয়তো বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।

হাওয়া ভবন প্রতিষ্ঠা

২০০১ সালের নির্বাচনের আগেই হওয়া ভবন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান। যাতে প্রত্যক্ষ মদদ ছিল বেগম জিয়ার। এই হাওয়া ভবন যদি প্রতিষ্ঠা না করতেন তাহলে হয়তো বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিণতি অন্যরকম হতো।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চিরস্থায়ীভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিচ্ছেদ রেখা তৈরি করেছে। এই ঘটনার কারণেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে সমঝোতা ও সহমর্মিতার সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ এই হামলার ঘটনাটি বেগম জিয়া চাইলেই এড়াতে পারতেন। সেটি না করা রাজনীতিতে তার একটি বড় ভুল ছিলো।

বি. চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া

২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করেছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু অধ্যাপক বি. চৌধুরীকে তিনি বেশি দিন সহ্য করতে না পারায় তাকে সরিয়ে দেন। তাকে সরিয়ে দেওয়া ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার একটি বড় ভুল।

কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য সংবিধান সংশোধন

কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য সংবিধান সংশোধন করেছিলেন খালেদা জিয়া। এই কাজটি করে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর আস্থা নষ্ট করে দিয়েছিলেন। সেটি হলো- কে এম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য প্রধান বিচারপতির বয়সসীমা বাড়িয়ে দেয়া সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী। আর এর মাধ্যমেই ‍মূলত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মৃত্যু ঘটে।

মইন ইউ আহমেদকে সেনাপ্রধান করা

আট জনকে ডিঙিয়ে মইন ইউ আহমেদকে সেনাপ্রধান করা ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার আরেকটি রাজনৈতিক ভুল। যে সিদ্ধান্তের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে ওয়ান ইলেভেন পর কারাবরণ করতে হয়েছিল।

২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়া

বেগম খালেদা জিয়া যদি ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিতেন তাহলে হয়তো তার রাজনৈতিক পরিণতি অন্যরকম হতো।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি