বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » এলএসডি কারবারে জড়িত ছাত্রদলের সেক্রেটারি শ্যামল, দেশে গড়ে তুলেছেন ১৫ গ্রুপ



এলএসডি কারবারে জড়িত ছাত্রদলের সেক্রেটারি শ্যামল, দেশে গড়ে তুলেছেন ১৫ গ্রুপ


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
31.05.2021

এলএসডি ব্যবসায় জড়িত ছাত্রদলের একটি গ্রুপের ৫ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক: দেশে লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথ্যালামাইড বা এলএসডি মাদক সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে ছাত্রদলের ১৫টি সক্রিয় গ্রুপ রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে রয়েছেন ছাত্রদলের সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন শ্যামল।

রাজধানীর শাহজাহানপুর, রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা সবাই ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী।

ছাত্রদলের এই সক্রিয় কর্মীরা হলেন- সাইফুল ইসলাম সাইফ (২০), এসএম মনওয়ার আকিব (২০), নাজমুস সাকিব (২০), নাজমুল ইসলাম (২৪) ও বিএম সিরাজুস সালেকীন (২৪)।

রোববার (৩০ মে) রাতে পল্টন থানা সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সূত্র বলছে, গতকাল রাত থেকে শাহজাহানপুর, রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এলএসডি সেবন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী যারা সরাসরি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত এমন ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভয়ঙ্কর মাদক ২ হাজার মাইক্রোগ্রাম এলসডি, আইস ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।

সূত্রের বরাতে জানা যায়, গ্রেফতাররা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, তারা সবাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের অনুসারী। গত এক বছর ধরে এলএসডি সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত তারা। অনলাইনে ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের পদবঞ্চিত এক নেতা বলেন, অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল আসক্ত হয়ে এলএসডি সেবন শুরু করে। মূলত বিদেশ থেকে এলএসডি মাদক সংগ্রহ করে সে। রাজধানীতে ১৫টি গ্রুপ রয়েছে শ্যামলের। ধীরে ধীরে এলএসডি ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে শ্যামল। ওর গ্রুপগুলো গত এক বছর ধরেই এই এলএসডি বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। আমরা বার বার তারেক রহমানের সাথে যোগাযোগ করে বলার চেষ্টা করেছি শ্যামল মাদকাসক্ত। কিন্তু আমাদের কথা কান না দিয়ে উল্টো আমাদেরই বহিষ্কার করা হয়।

১৫টি গ্রুপকে শনাক্ত করা গেছে কি-না জানতে চাইলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, এই শিক্ষার্থীরা সরাসরি ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। অনলাইনের মাধ্যমে এলএসডি মাদক নিয়ে আসতো। তবে তাদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারে কাজ চলছে। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা দিয়েছে তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এখনই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। যে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাই হোক না কেন মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

তারা কোন দেশ থেকে এলএসডি নিয়ে আসতো—এমন প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মূলত ইউরোপ থেকে এলএসডি নিয়ে আসতো। ১৯৩৮ সালে সুইজারল্যান্ডের একজন বিজ্ঞানী ওষুধ হিসেবে এলএসডি আবিষ্কার করে। পরে এটি অপব্যবহার হয়ে মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশে এলএসডি ব্যবসায় জড়িত ১৫ গ্রুপ

দেশে এলএসডি কীভাবে আসে—জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কুরিয়ার ও লাগেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দেশে এলএসডি আসে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, ১৪ থেকে ১৫টি গ্রুপ দেশে এলএসডি আনার সঙ্গে জড়িত। আমরা এই গ্রুপের সব সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে পারব বলে আশা করি। তাদের রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য বিষয নয়।

দেশে এই গ্রুপগুলো কত দিন ধরে সক্রিয় আছে, জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা গত এক বছর ধরে এলএসডি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া গত এক বছর ধরে তারা এলএসডি সেবন করছে বলে জানা গেছে। গ্রুপের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার করলে বুঝতে পারব তারা দেশে কতদিন ধরে সক্রিয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি