শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » ভাইয়াকে টাকা না পাঠালে ‘বহিষ্কারাদেশ’ প্রত্যাহার হবে না, বললেন ১২ ছাত্রদলনেতা



ভাইয়াকে টাকা না পাঠালে ‘বহিষ্কারাদেশ’ প্রত্যাহার হবে না, বললেন ১২ ছাত্রদলনেতা


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
31.05.2021

নিউজ ডেস্ক: বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হবে এবং এরপর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে স্বস্তির সঙ্গে অংশ নেবেন—এমন প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক ডজন বহিষ্কৃত নেতা। দুই বছর ধরে তারা এই অপেক্ষায় থাকলেও এখনো কোনো সুখবর মিলছে না। এ নিয়ে চরম হতাশ তারা। তবে দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডের বিবেচনায় রয়েছে। আর অপরদিকে এই বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতারা বলছেন, ভাইয়াকে টাকা না পাঠালে ‘বহিষ্কারাদেশ’ প্রত্যাহার হবে না এটা আমরাও জানি। কিন্তু লাইনটাই তো পাচ্ছি না টাকাটা পাঠাবো কার হাত ধরে।

নানা বিতর্ক-আলোচনার মধ্যে ২০১৯ সালের ৩ জুন রাতে ছাত্রদলের কমিটি ভেঙে দেয় বিএনপি। তখন বলা হয়, পরবর্তী ৪৫ দিনের মধ্যে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হবে। আর নতুন কমিটিতে নেতৃত্ব নির্ধারণের শর্ত হিসেবে বলা হয়, কেবল ২০০০ সালের পর থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে স্থান পাবেন।

এই বয়সসীমা বাতিলের দাবিতে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা ওই বছরের ১১ জুন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। কার্যালয়ের ভেতরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদকেও তারা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

সেদিন লন্ডনে থাকা ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার পর বিক্ষুব্ধরা শান্ত হলেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধদের আন্দোলন নিয়ে সেদিন সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হয়। বৈঠকের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির প্যাডে মির্জা ফখরুলের স্বাক্ষরে এই নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানানো হয়। এরপর ২২ জুন ওই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রদলের ১২ নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায় থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি।

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, ইখতিয়ার কবির, জয়দেব জয়, মামুন বিল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন তুষার, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, আব্দুল মালেক ও সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য আজীম পাটোয়ারী।

এরপর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসায় ওই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডাকসুর সাবেক জিএস বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন।

‘শৃঙ্খলা ভঙ্গে’র কারণে ওই ১২ জনকে বহিষ্কার করা হলেও পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান রাজনৈতিকভাবে তাদের দায়িত্ব নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা আশায় বুক বাঁধতে থাকেন। ছাত্রদলে কেউ পদবঞ্চিত হলে তাদের স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদলসহ অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হয়। কিন্তু যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দু’দফা (আংশিক) কমিটি ঘোষণা হলেও তাদের কাউকে পদায়ন করা হয়নি। তারেক রহমানসহ সিনিয়র নেতারা আশ্বাস দিলেও দুই বছরেও তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি।

এই ১২ জনের বহিষ্কারাদেশের বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে খায়রুল কবীর খোকন বলেন, ‘এটা আমাদের অত্যন্ত সেনসেটিভ বিষয়। বিষয়টা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন সরাসরি ডিল করছেন। আমরাও সুপারিশ করেছিলাম, তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। এটা এখন বিবেচনাধীন আছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন সময়মতো দেখবেন কী করা যায়।’

কবে নাগাদ সিদ্ধান্ত হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টা আলোচনাধীন রয়েছে। আলোচনাধীন বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয় তা বলতে পারছি না।’

বিএনপির দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।

দলীয় সূত্র মতে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত অমান্য করে আন্দোলন করায় বিষয়টি তিনি ভালোভাবে নেননি। সংগঠনের সুশৃঙ্খল কাঠামো বজায় রাখতে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে বহিষ্কৃতদের ব্যাপারে দলীয় হাইকমান্ড ইতিবাচক রয়েছে। কিছুদিন আগে জহির উদ্দিন তুহিন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন, তখন তারেক রহমান সার্বক্ষণিক তার খোঁজ-খবর রেখেছেন। এমনকি হাসপাতালের যাবতীয় খরচও তিনি বহন করেছেন।

বিএনপির হাইকমান্ডের একটি সূত্র বলছে, বহিষ্কৃতরা দলের সঙ্গে আছেন বলেই দেখে থাকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাই দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে তাদের বাধা দেয়া হয় না। তারা বিনাবাধায় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। যেহেতু তাদের এখন ছাত্রদল করার সুযোগ নেই, যুবদল-স্বেচ্ছাসেবকদল পুর্নগঠন শুরু হলে তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে সাংগঠনিক দায়িত্ব অর্পণ করা হবে।

এদিকে ছাত্রদলে পদের অপেক্ষায় থেকে গত ঈদুল ফিতরের আগে ৪০ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইখতিয়ার কবির। বিবাহিত হলে ছাত্রদলের দায়িত্বশীল পদ পাওয়া যাবে না বলে এতদিন তিনি বিয়ে করেননি। কিন্তু দায়িত্বশীল পদ পাওয়ার সম্ভাবনা আর না থাকায় তিনি অবশেষে বিবাহিত জীবন শুরু করেন।

বহিষ্কৃত সাবেক কেন্দ্রীয়-সভাপতি এজমল হাসান পাইলট বলেন, ‘আমরা আমাদের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়েছি। দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, কিন্তু এখনো আমাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়নি। আমরা অপেক্ষায় আছি।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান বিদেশে; এই মুহূর্তে সংগঠনে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে চাই। করোনাকালে নেতারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের নির্দেশে মাঠে রয়েছেন, মানুষের সাথে রয়েছেন। আমিও দলের হয়ে এই করোনাকালে নিজেদের উৎসর্গ করতে চাই। স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করছি, এই সময় দলের মধ্যে থাকতে চাই। কারণ আগামী ৫০ বছর হয়তো বাঁচবো না।’



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি