বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 3 » রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় আসামি হচ্ছেন খালেদা-বাবুনগরী



রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় আসামি হচ্ছেন খালেদা-বাবুনগরী


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
31.05.2021

নিউজ ডেস্ক: ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় যে তাণ্ডব করেছিল হেফাজত সেই তাণ্ডবের পর হেফাজতের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছিল। তার মধ্যে একটি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা। ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল যে, আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করার জন্য এই হেফাজত শাপলা চত্বরে অবস্থান গ্রহণ করেছিল এবং সরকার পতনের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। এখন এই মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে।

এই মামলায় তদন্তে এখন পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, হেফাজতের এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিল বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতির ভিত্তিতে জুনায়েদ বাবুনগরী এ ধরনের একটি নীল-নকশা তৈরি করেছিলেন। মূল পরিকল্পনা ছিল যে তারা ঢাকায় আসবেন এবং শাপলা চত্বরে অবস্থান গ্রহণ করবেন এবং সারা ঢাকা শহরে নাশকতার তাণ্ডব চালিয়েছে সরকার কোণঠাসা করবে, চাপের মুখে পড়বে এবং একটি পর্যায়ে সরকারকে উৎখাত করবে।

একটি ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করা হবে। সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন জুনায়েদ বাবুনগরী এবং রাষ্ট্রপ্রতি হবেন আহমদ শফী। এই প্রস্তাবে আহমদ শফী সাড়া দেননি। ৫ মে রাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃঢ় অবস্থানের কারণে এই নীলনকশা ভেস্তে যায়। তারা হেফাজতকে শান্তিপূর্ণভাবে শাপলা চত্বর থেকে উচ্ছেদ করে এবং পরবর্তীতে এই নিয়ে একাধিক মামলা হয়। তার মধ্যে একটি ছিলো রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা।

যখন শাপলা চত্বরে দিনভর অবস্থান গ্রহণ করেছিল হেফাজত সেই সময় জুনায়েদ বাবুনগরী ইসলামী বিপ্লব এবং ইসলামী সরকারের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই সরকারের পতন ঘটিয়ে তারা শাপলা চত্বর ছাড়বেন।

আর সেই সূত্র ধরেই তদন্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা তদন্ত করে দেখেছে যে, জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে এই নীল-নকশা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার কথা হয়েছিল এবং বেগম খালেদা জিয়া তাকে ৫ মে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলেন যে ,তারা মেহমান এবং তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে হবে। তার এই আহ্বানের পর বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাসসহ একাধিক বিএনপি নেতৃবৃন্দ শাপলা চত্বরে যান এবং সংহতি জানান। বেগম খালেদা জিয়া এই পরিকল্পনার কথা জানতেন বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এবং সরকারকে যে কোন মূল্যে ফেলে দেওয়ার জন্য তিনি হেফাজতের সাথে হাত মিলিয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্র বলছে, মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। হেফাজতের একাধিক নেতাকে এখন এই মামলার সূত্রে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে তারা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। আর সেই সমস্ত তথ্যের ভিত্তিতে এখন মামলার চার্জশিট প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি