শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া বাবুনগরী


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.06.2021

নিউজ ডেস্ক: জুনায়েদ বাবুনগরী মামলা এবং জেল থেকে বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি দেন-দরবার, চেষ্টা করছেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বাবুনগরীর সাথে কোন ধরনের যোগাযোগই করা হচ্ছে না। এমনকি বাবুনগরী বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার জন্য যে সমস্ত প্রস্তাব দিচ্ছেন তার দিকেও কর্ণপাত করছে না সরকার। জুনায়েদ বাবুনগরী এখান থেকে বাঁচার জন্য তিনি অরাজনৈতিক হেফাজত গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব সরকার ইতিবাচক ভাবে নেয়নি বলে জানা গেছে।

এখন জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা, একটি মামলা ২০১৩ সালের ৫ মে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ তাণ্ডব আর তিনটি মামলা করা হয়েছে এবছরের ২৬ এবং ২৭ মার্চের ঘটনা নিয়ে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন তার সম্পদের হিসেব তদন্ত করছে, অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার ব্যাংক একাউন্ট এর বিবরণী চেয়েছে। এছাড়াও তাঁর জমি-জমা সহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, জুনায়েদ বাবুনগরীর জ্ঞাত আয়ের বাহিরে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদ রয়েছে। আর এই সমস্ত অর্থ ও সম্পদের উপার্জনের উৎস যদি তিনি না বলতে পারেন তাহলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আর এই সবকিছু মিলিয়ে জুনায়েদ বাবুনগরী অস্থির অবস্থায় আছেন।

তবে হেফাজতের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, এসবের চেয়ে জুনায়েদ বাবুনগরীর সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হল তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সমস্ত নেতৃবৃন্দকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বাবুনগরীর সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিচ্ছেন। আর এই সমস্ত তথ্যগুলো জুনায়েদ বাবুনগরীর জন্য ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। উল্লেখ্য যে, আহমদ শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী আমির হয়েছিলেন। জুনায়েদ বাবুনগরীকে মনে করা হয় হেফাজতের উগ্রবাদীদের নেতা।

আহমদ শফী যেমন হেফাজতকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে রেখেছিলেন, জুনায়েদ বাবুনগরী সেখান থেকে দূরে সরে আসেন। তিনি হেফাজতের সম্মেলনের সময় যাদেরকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিয়েছেন তাদের অধিকাংশেরই রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে এবং বিএনপি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত।

জুনায়েদ বাবুনগরী কট্টরবাদী এবং জামায়াতের সঙ্গে তার সম্পর্ক হওয়ার কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই একের পর এক সরকারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। জুনায়েদ বাবুনগরী বুঝতে পারেননি যে, সরকার যদি পাল্টা আঘাত করে সেটি কি রকম হবে। বরং ২০১৩ সালের পর সরকারের সঙ্গে আহমদ শফীর যে সমঝোতা সেই সমঝোতা মাথায় নিয়ে তিনি মনে করেছিলেন যে, চাপ সৃষ্টি করলে সরকার বশীভূত হবে। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো।

হেফাজতের ২৬ এবং ২৭ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী হেফাজত যে তাণ্ডব করেছে সেই তাণ্ডবের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। আর এ কারণেই সরকার আর হেফাজতকে নতুন করে কোন আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে চায়না। সরকারের একাধিক সূত্র বলছে, জুনায়েদ বাবুনগরী যতই চেষ্টা করুক না কেন সরকারের দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে গেছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি