শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১



ফখরুলের মুখে খালেদা, অন্তরে তারেক!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
02.06.2021

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এতোদিন সবাই খালেদাপন্থী জানলেও এবার বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল। জানা গেলো, তিনি আসলে সুযোগসন্ধানী। এ কারণে এতোদিন খালেদার তাঁবেদারি করেছেন। এখন পরিস্থিতি প্রতিকূলে থাকায় ছুটছেন তারেকের পেছনে। ১ জুন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি করলেন তারই বহিঃপ্রকাশ। বললেন, তারেকের নেতৃত্বে তারা হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবেন। এ কথা শুনে অসন্তুষ্ট হয়েছেন বিএনপির অনেকেই। তারা বলছেন, খালেদা জিয়া থাকতে তাকে ‘মাইনাস’ করে ফখরুলের এই বক্তব্য অশোভনীয়। শুধু তাই নয়, তার এই বক্তব্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে তিনি আসলে কি চান এবং কি তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য।

দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আদতে কোন আদর্শ নেই। তিনি যেখানে নিজ স্বার্থ খুঁজে পান, সেখানেই নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। যার প্রমাণ ইতোমধ্যে দেশবাসী পেয়েছেন। এতোদিন ফখরুল বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সান্নিধ্যে থাকলেও তার কারান্তরীণ অবস্থার পর থেকে বদলে যেতে থাকে পরিস্থিতি। তিনি অনুধাবন করেন, খালেদার সময় শেষ। এখন তারেক ছাড়া উপায় নেই। তাই তিনি সরকারের মহানুভবতায় খালেদার কারামুক্তির পর তার সঙ্গে মুখে মুখে আন্তরিক থাকলেও মূলত তিনি ছিলেন তারেক রহমানের দূত। এ কারণে গোপনে খালেদার সব পরিকল্পনার কথা অবলীলায় তার সঙ্গে শেয়ার করতেন ফখরুল। গোপন এই বিষয়টি আর বেশিদিন গোপন রইলো না, প্রকাশ্য হলো।

এর আগে ফখরুল এক ভার্চুয়াল সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘চেয়ারম্যান’ বলে সম্বোধন করেন। তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে তথা রাজনৈতিক মহলে হৈচৈ পড়ে যায়। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ১ জুন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৩ হাজার মাইল দূরে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যাকে আমরা সবাই তারুণ্যের অহংকার বলি, যার নেতৃত্বে আমরা আন্দোলন করছি, সংগ্রাম করছি তাকে নিয়েই আমাদের হারিয়ে যাওয়া যে গণতন্ত্র, তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবো।

ফখরুলের এই মন্তব্যে চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। তারা বাংলা নিউজ ব্যাংকের এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, মির্জা ফখরুলের মতো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার কাছ থেকে তারা এটি আশা করেননি। কারণ, নেত্রী স্বয়ং এখনও জীবিত। তার গুরুত্ব কোনভাবেই শেষ হয়ে যায়নি। হ্যাঁ, তিনি এই মুহুর্তে অসুস্থ এবং রাজনীতি থেকে সাময়িক দূরে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তিনি আর কখনোই রাজনীতিতে ফিরবেন না কিংবা নেতৃত্ব দেবেন না।

এ বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মির্জা ফখরুল হয়তো জানেন না তারেকের যখন যাকে প্রয়োজন, তিনি তখন তাকে ব্যবহার করেন। আবার ব্যবহার শেষে ছুঁড়ে ফেলে দেন ডাস্টবিনে। তার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হবে না। কিন্তু ফখরুল সেটি বুঝতে পারছেন না। এ কারণে বিএনপি নেত্রীর ঘনিষ্ঠজন হওয়া সত্ত্বেও তিনি খালেদার তথ্য ও পরিকল্পনা গোপনে তারেকের কাছে প্রচার করছেন। আর উপরে উপরে, মুখে মুখে তিনি খালেদারই লোক বলে মিথ্যে হাসি হাসছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, পরবর্তী দলীয় কাউন্সিলে আবারও মহাসচিব পদ বাগাতে ফখরুল এখন তারেকপন্থী বনে গেছেন। কারণ, তিনি বুঝে গেছেন, খালেদা নয় বিএনপি নিয়ন্ত্রণ করছেন তারেক। ভবিষ্যতেও তিনি করবেন। এমনকি হবেন দলের সর্বসবাও। তাই এখন থেকেই তার তাঁবেদারিতে মনোনিবেশ করেছেন তিনি।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি