শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » সেনাপ্রধান পদে থেকে জিয়ার গণভোট ও জোরপূর্বক রাষ্ট্রপতি হওয়া



সেনাপ্রধান পদে থেকে জিয়ার গণভোট ও জোরপূর্বক রাষ্ট্রপতি হওয়া


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.06.2021

নিউজ ডেস্ক: ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময় ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের বর্বরোচিত কালো অধ্যায়। ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমল।

নির্মোহ চিত্তে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনা করে দেখা যায়- জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিনষ্ট, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন, বিতর্কিত সামরিক আদেশ-আইন জারিসহ সামরিক ক্যু’র নামে দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা এবং সেনাসদস্যদের হত্যার পেছনের এক খলনায়ককে।

সে সময়টাকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের লজ্জা ও কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবেই অভিহিত করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জিয়াউর রহমান নিজেই এক সামরিক ফরমান জারি করে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেছিলেন; আবার নিজেই আরেক ফরমান জারি করে ঘোষণা দেন তিনিই দেশের ‘প্রেসিডেন্ট’।

কে তাকে প্রস্তাব দিল? কে তাকে ভোট দিল? এমন কোনো প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার সুযোগ তখন ছিল না। শুধু সামরিক ফরমান জারি করে জিয়া বলেছিলেন, ‘এখন থেকে আমি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট।’

১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান একা ‘প্রেসিডেন্ট প্রার্থী’ হয়ে ‘হ্যাঁ কিংবা না’ ভোটের আয়োজন করে। যা ছিল ভোটারবিহীন এক প্রহসনের নির্বাচন।

এককভাবে নির্বাচনে প্রার্থীর বিষয়ে গণতন্ত্রের প্রশ্ন ছাড়াও বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর যে বিধিমালা রয়েছে তাতেও তিনি প্রার্থী হতে পারেন না। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে সামরিক বাহিনীতে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে চাকরিরত ছিলেন। সুতরাং, ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি ও আইনের বরখেলাপ। সে হিসেবে জিয়াউর রহমান ছিলেন অবৈধ রাষ্ট্রপতি।

জিয়া বুঝতে পেরেছিলেন বন্দুকের নল দেখিয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তাই একই সঙ্গে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি থাকার জন্য একটি সামরিক ফরমান জারি করেন এবং ১৯৭৮ সালের ১ মে জিয়া নিজেকে চেয়ারম্যান করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ ঘোষণা করে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

পরে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হবার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭৮ সালের ৩ জুন নির্বাচনের নামে প্রহসন করে দেশে আকঙ্ক সহিংসতা ছড়িয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।

জিয়াউর রহমান দেশের সংবিধান, আইন-কানুন, সামরিক বাহিনীর বিধি অবৈধভাবে নিজের স্বার্থে পরিবর্তন করেছেন এবং তা জারি করেছেন বারবার।

বাংলাদেশ আর্মি অ্যাক্ট ২৯২ ও ২৯৩ বিধিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, সামরিক বাহিনীর কোনো সদস্য তার চাকরির মেয়াদ শেষ না হতে কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

২০১০ সালে সংবিধানের সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে হাই কোর্টের এক রায়ে বলা হয়, খন্দকার মোশতাক, আবু সা’দাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের মতো এইচএম এরশাদও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি