শুক্রবার ১৮ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » তারেক রহমানের কাছে এলএসডি বিক্রির টাকা চাইছে বিএনপি



তারেক রহমানের কাছে এলএসডি বিক্রির টাকা চাইছে বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.06.2021

নিউজ ডেস্ক : বর্তমান বিএনপির নাজুক অবস্থা সামলে দলকে পুনর্গঠন করতে খরচ দেখিয়ে তারেক রহমানের কাছে ৫০ কোটি টাকা চেয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বেগম জিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা, নেতাকর্মীদের মামলা খরচ, দলকে পুনর্গঠিত করতে আন্দোলন-কর্মসূচির খরচসহ অন্তত ১৫টি খাত দেখিয়ে ওই পরিমাণ অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র বলছে, বিএনপি নেতারা অর্থ চাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি দলীয় কর্মকাণ্ডের জন্য নেতাদের কাছে অর্থ দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

জানা যায়, ১ জুন সকালে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে স্কাইপে বৈঠকে বসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় বিএনপি নেতারা দল চালাতে অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলেন। তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে জানতে চান কত টাকা লাগবে? জবাবে বিএনপি নেতারা বিভিন্ন খাতের কথা উল্লেখ করে টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

প্রত্যুত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার কাছে এতো টাকা নেই। এসময় বৈঠকে উপস্থিত থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় পেছন থেকে বলে ওঠেন, বাংলাদেশের ১৫টি স্পটে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলএসডি মাদক বিক্রি করার যে পরিমাণ টাকা লন্ডনে যেতো সেখান থেকে এই টাকা দিলে দল পুনর্গঠন সহজ হবে। এ কথা শুনে তারেক রহমান রেগে যান এবং গয়েশ্বরকে বৈঠকস্থল ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। তারেক রহমানের সঙ্গে স্কাইপে বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির অন্তত দু’জন নেতা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলা নিউজ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা তারেক রহমানের কাছে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে অর্থ চেয়েছিলাম। বেগম জিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা খরচ দলগতভাবে বহন করতে হবে। তাছাড়া তাকে যদি ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে বেগম জিয়ার চিকিৎসার পুরো খরচই বহন করতে হবে। সে সময় টাকার প্রয়োজন হবে। এছাড়া বেগম জিয়ার মামলা পরিচালনার ব্যয় বকেয়া পড়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। মুক্তির জন্য আইনি লড়াইয়ে আরো খরচ ২ কোটি টাকা। বেগম জিয়ার গুলশানের বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস বিল ইত্যাদি বকেয়া হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এছাড়াও তার নিরাপত্তারক্ষী, মালিসহ ৩২ জন কর্মচারীর বকেয়া বেতনের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা। বিএনপির কম-বেশি আট হাজার নেতাকর্মীর ঘাড়ে মামলা ঝুলে আছে, তাদের মামলা পরিচালনার জন্য অন্তত ১৪ কোটি টাকা প্রয়োজন। আটক নেতাকর্মীদের পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য ১০ লাখ টাকা হিসেবে বছরে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। এ জন্যই আমারা টাকা চেয়েছিলাম।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আমার বিশ্বাস তারেক রহমান সময় মতো দলের আর্থিক প্রয়োজনীয়তা বুঝবেন। বিভিন্ন খাত থেকে তারেক রহমান হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করেও যদি দলের প্রয়োজনে টাকা পয়সা দিতে না চান, তবে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখা কষ্টসাধ্য হবে।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের এলএসডি গ্রহণ করে নিজেকে হত্যা করার পর এ সংক্রান্ত সংবাদ সামনে আসে। পরে জানা যায়, ঢাকায় যতোগুলো এলএসডি মাদকের স্পট আছে, তা সরাসরি তারেক রহমানের নিয়ন্ত্রণে লন্ডন থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো। যদিও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি