শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » other important » এলএসডি কেনাবেচায় যুক্ত শিক্ষার্থীর একজন তাবিথ আওয়ালের ভাই



এলএসডি কেনাবেচায় যুক্ত শিক্ষার্থীর একজন তাবিথ আওয়ালের ভাই


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
03.06.2021

নিউজ ডেস্ক : এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড) মাদক সেবন ও বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগ। পুলিশ বলছে, এই পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদে এলএসডি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও ১৫ টি গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে তারা।

গ্রেপ্তার ৫ জন হলেন- সাইফুল ইসলাম সাইফ (২০), এসএম মনওয়ার আকিব (২০), নাজমুস সাকিব (২০), নাজমুল ইসলাম (২৪) ও বিএম সিরাজুস সালেকীন (২৪)। তাদের কাছ থেকে ২ হাজার মাইক্রোগ্রাম এলএসডি, আইস ও গাঁজা জব্দ করা হয়েছে।

৩০ মে রোববার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন (ডিএমপি) পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ।

এরপর জানা যায়, এলএসডি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকা সাইফুল ইসলাম সাইফ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাইয়ের ছেলে। অর্থাৎ তাবিথ আউয়ালের চাচাতো ভাই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল নিজেও এলএসডি মাদকের ব্যবসা করার জন্য সাইফুল ইসলাম সাইফকে বিপুল পরিমাণে অর্থ প্রদান করেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাদের ঘনিষ্ট এক আত্মীয় বলেন, প্রথমাবস্থায় এলএসডিকে অবৈধ কিছু মনে না হওয়ায় এ খাতে তাবিথ আউয়াল ইনভেস্ট করেন।

এখন যেহেতু এলএসডি অবৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে, তাই এ মুহুর্তে এ খাতে বিনিয়োগ করার প্রশ্ন উঠে না। আমি বিশ্বাস করি, তাবিথ আউয়াল তার ভাই, সাইফুল ইসলাম সাইফকে কারাগার থেকে বের করার চেষ্টা করবেন। কারণ তাবিথ আউয়াল উৎসাহ না দিলে, এতো বড় ঘটনা ঘটতো না।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে নিহত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এলএসডির সন্ধান পায় ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযান চালিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে তারা।

ডিবি জানায়, হাফিজুরকে তার বন্ধুরা এলএসডি সেবন করানোর পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এক ডাব বিক্রেতার দা কেড়ে নিয়ে নিজের গলায় চালিয়ে দেন। এর কয়েক ঘণ্টা তার মৃত্যু হয়। ডিবির এই বক্তব্যের পর এলএসডি নতুন করে আলোচনায় আসে।

মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আ. আহাদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শাহজাহানপুর, রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা গত এক বছর ধরে এলএসডি সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে। অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা আসক্ত হয়ে এলএসডি সেবন শুরু করে। তারা নিজেরাও অনলাইনে তাদের এই ব্যবসার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি