বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 4 » বাজেটে কালো টাকা সাদার সুযোগ না রাখায় হতাশ বিএনপি



বাজেটে কালো টাকা সাদার সুযোগ না রাখায় হতাশ বিএনপি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
04.06.2021

নিউজ ডেস্ক : ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। গত বছরের চেয়ে এবার বাজেটের ব্যয় বেড়েছে ১২ ভাগ।

এদিকে, বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থের মোড়কে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নতুন করে ঘোষণা না দেওয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

পাশাপাশি সৎ করদাতাদের প্রতি বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক এই সুবিধা যেন অন্য কোনো উপায়ে আয়কর অধ্যাদেশে রাখা না হয় সে বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংস্থাটি।

তবে, কালো টাকা সাদা করার সুযোগের নতুন ঘোষণা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনবি।

সরকারের এমন প্রশংসনীয় সিদ্ধান্তে সর্ব সাধারণ প্রশংসা করলে, সেখানে কেনো বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করলো? এ বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপিতে প্রচুর পরিমাণে কালো টাকার পাহাড় বানানো ব্যবসায়ী নেতা রয়েছে। যারা ভেবেছিলো, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলে, তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে অবৈধ সম্পদকে বৈধ করবেন। কিন্তু তাদের আশায় গুড়ে বালি পড়ায় হতাশ হয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, বিএনপিতে কালো টাকা সাদা করার মতো ব্যবসায়ী নেই, সেটা অস্বীকার করছি না। তবে গত বছরে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ায় ১৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর সরকারি রাজস্ব খাতায় জমা পড়ে। উক্ত বিবেচনায় আমরা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এর বেশি কিছু নয়।

উল্লেখ্য, বিএনপিতে কালো টাকা সাদা করার মধ্যে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু। যার অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে বলে ২০১৯ এর একটি অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। এরপরের অবস্থানে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। ২০০৫ সালের দিকে তার অবৈধ সম্পত্তির পরিমাণ ৭ হাজার কোটি টাকা থাকলেও বিগত ১৬ বছরে তার অবৈধ অর্থের পরিমাণ কমে বর্তমানে দাঁড়িয়ে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকায়। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, যার অবৈধ সম্পত্তির পরিমাণ ৪ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু, রুমিন ফারহানাসহ বিএনপির শতাধিক নেতার ওপর অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায় প্রত্যেকেরই বিপুল অংকের কালো টাকা বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে। যেখানে এবারের বাজেটে অনেকেই চেয়েছিলেন, তাদের কালো টাকা সাদা করতে। কিন্তু এবারের বাজেটে এমন সুযোগ না থাকায় বিএনপির কালো টাকার মালিকদের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি