শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১



জামায়াতই ঠিক করছে হেফাজতের কমিটি


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
05.06.2021

নিউজ ডেস্ক: কোণঠাসা অবস্থায় জুনায়েদ বাবুনগরী নিজেকে বাঁচানোর জন্য হেফাজতের কমিটি বাতিল করে দেন। এখন একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন। জুনায়েদ বাবুনগরী এখন একটি অরাজনৈতিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া করছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। যারা কোন রকম রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নয় তাদেরকে নিয়ে কমিটি করে জুনায়েদ বাবুনগরী একটি অরাজনৈতিক অবয়ব দিতে চান হেফাজতে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন মূল কারণ হলো, জুনায়েদ বাবুনগরী আসলে বাঁচতে চান। তার বিরুদ্ধে অন্তত চারটি মামলা তদন্ত চলছে। এখনও তিনি গ্রেফতার হচ্ছে না কেন সেটি একটি বড় প্রশ্ন বটে। আর এরকম একটি বাস্তবতায় জুনায়েদ বাবুনগরী তার বাঁচার ঢাল হিসেবে হেফাজতের কমিটিকে ব্যবহার করছেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, আসলে জুনায়েদ বাবুনগরীর কোন রকম পরিবর্তন ঘটেনি। বরং সরকারকে উৎখাত করে একটি ইসলামী বিপ্লব করার যে নীলনকশা সেখান থেকে তিনি সরে আসেননি। বরং বিএনপির একটি অংশ এবং জামায়াতকে নিয়ে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই নতুন কৌশল আনছেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী এখন কৌশলগত কারণেই দুই পা পিছিয়ে গেছেন কিন্তু পিছিয়ে গিয়েও তিনি এখনও জামায়াত-বিএনপি`র সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নতুন কমিটি করার ক্ষেত্রে জুনায়েদ বাবুনগরীর সম্পূর্ণভাবে জামায়াতের উপর নির্ভর করছে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আল্লামা শফীর মৃত্যুর পর জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের যে কমিটি করেন সেই কিমিটিতে তিনি কেবল আহমদ শফীর পক্ষাবলম্বীদেরকে বাদ দেননি, তিনি একটি রাজনৈতিক আবরণ দিয়েছিলেন। যারা বিএনপি-জামায়াতের ২০ দলীয় জোটে আছে তাদেরকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ তথাকথিত মাওলানাদেরকেও তিনি নেতৃত্বে এনেছিলেন। এর লক্ষ্য ছিল দু`টি। প্রথমত, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের একটি ফন্ট হিসেবে কাজ করা। আর দ্বিতীয়ত, চাপ দিয়ে অর্থ লুটপাট করা।

এখন যখন হেফাজতের নেতাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে তখন দেখা যাচ্ছে যে হেফাজতের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের অবৈধ সম্পদের পাহাড় রয়েছে। এমনকি জুনায়েদ বাবুনগরীরও বিপুল বিত্তের সন্ধান পেয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থারা। আর এসব নিয়ে যখন তদন্ত করা হচ্ছে তখনও জামায়াতকে দিয়ে একটি নতুন কমিটির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, হেফাজতের কিছু কিছু নেতা খেলাফত, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বা অন্যান্য ইসলামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে একটি মূল অংশ গোপনে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং গত কমিটিতে এই জামায়াতপন্থীরাই নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন।

এদের আপাতদৃষ্টিতে কোন রাজনৈতিক পরিচয় নেই। মনে করা হয় তারা শুধুমাত্র মাদরাসার শিক্ষক বা আলেম। কিন্তু এরা প্রত্যেকেই জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। জামায়াতের যে আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মী তারাই মূলত হেফাজতের নেতৃত্বে এসেছিলে। জামায়াতের নিয়ন্ত্রণেই হেফাজত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধিতা করা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিরোধিতা করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল।

জামায়াত মূলত হেফাজতকে চালায়। জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে জামায়াতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। জুনায়েদ বাবুনগরী যেহেতু পাকিস্তানে ছিলেন, দীর্ঘদিন পাকিস্তান থেকে পড়াশোনা করে এসেছেন। তিনি পাকিস্তানপন্থী এবং জামায়াতের একজন থিংক ট্যাংক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী যেমন দীর্ঘদিন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত করেননি। কিন্তু জামায়াত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতেন ঠিক তেমনি জুনায়েদ বাবুনগরী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত না করলেও জামায়াতের একজন থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত। একইভাবে এখনো কিছু ব্যক্তি আছেন হেফাজতে যারা জামায়াতপন্থী। তাদেরকে নিয়ে একটি কমিটির প্রক্রিয়া চলছে যে কমিটিটি হবে আসলে জামায়াতের বি টিম। এই কমিটির গঠনের নেপথ্যে কাজ করছে স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীর দল জামায়াত ইসলাম।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি