শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » মুড়ি ব্যবসায় নামছেন বিএনপির একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা!



মুড়ি ব্যবসায় নামছেন বিএনপির একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা!


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
05.06.2021

ডেস্ক রিপোর্ট: ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মুড়িতে ভ্যাট অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এর ফলে দেশে মুড়ি ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এদিকে অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণায় বিএনপির নেতাদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে দিনের পর দিন হতাশায় ভোগা বিএনপির একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতা রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে কি করবেন সেটি ঠিক করতে পারছিলেন না। অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণার পর এই নেতারা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। জানা গেছে কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার,আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অর্থমন্ত্রীর ঘোষণায় উৎফুল্ল হয়ে উঠেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতারা অচিরেই রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে মুড়ি ব্যবসায় নামছেন।

সূত্র জানায়, দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকেই সবকিছু লন্ডন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু তারেকের নেতৃত্ব মানতে নারাজ বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা। জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজনীতি করা এই নেতারা তারেক রহমানকে বিএনপির নেতা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। তারেককে বিএনপির মত বড় দল পরিচালনার অযোগ্য মনে করেন এই নেতারা। এর ফলে বিএনপির ভেতরে দুটি ধারা বিরাজমান। সিনিয়র বেশিরভাগ নেতারাই খালেদা জিয়ার পক্ষে, অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা তারেক রহমানের পক্ষে। তারেকের সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ এই সিনিয়র নেতারা অনেক দিন ধরেই দলে উপেক্ষিত। স্থায়ী কমিটি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হলেই সকল সিদ্ধান্তই তারেক একাই নিচ্ছেন। এর ফলে নিজেদের গুরুত্বহীন মনে করছেন সিনিয়র নেতারা। দলের সিদ্ধান্তে কোন ভূমিকা রাখতে না পেরে হতাশায় ভোগা এই নেতারাই রাজনীতি ছাড়ার চিন্তা করছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের জন্য এত ত্যাগ করেও কোনকিছু তো পেলাম না। একটা আশা ছিল, দল ক্ষমতায় গেলে কিছু পাব। কিন্তু দলের এক শ্রেণীর নেতার বিশ্বাসঘাতকতায় বিএনপির আন্দোলন ব্যর্থ হল। আবার দলেও কোন মূল্যায়ন পেলাম না। আন্দোলনে এত ভূমিকা রেখেও স্থায়ী কমিটিতে পদ পেলাম না, অথচ রাজনীতি না করেও শুধুমাত্র টাকার জোরে অনেকেই পদ পেয়েছেন। বিএনপিতে এখন ত্যাগের মূল্যায়ন নেই, টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া হয়। এই অবস্থায় সম্মানজনকভাবে রাজনীতি ছাড়ার চিন্তা করছিলাম। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পরে একটা দিশা খুঁজে পেলাম। এখন দ্রুত রাজনীতি বাদ দিয়ে গ্রামে গিয়ে মুড়ির ব্যবসা শুরু করব। বাকি জীবনটা আরামে কাটাতে চাই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, বিএনপির সব সিদ্ধান্ত তো তারেক রহমান একাই নেন। ম্যাডাম থাকাকালীন আমাদের কথা শুনতেন, তারেক তো আমাদের কারও কথাই শোনে না। মিটিংয়ে বসে তারেক একাই সিদ্ধান্ত দেন, আমরা শুধু মাথা ঝাঁকাই। যদি আমাদের মতামতের দামই না থাকে তাহলে দল করে লাভ কি? এরচেয়ে রাজনীতি বাদ দেওয়াই ভালো। এবারের বাজেটের অনেক কিছু পছন্দ না হলেও মুড়ি ব্যবসার জন্য অর্থমন্ত্রীর ভ্যাট ছাড়ের ঘোষণা খুবই ভালো লেগেছে। খুব দ্রুত বিএনপি থেকে অবসর নিয়ে মুড়ির ব্যবসায় নেমে পড়ব।

এদিকে বিএনপির একঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতার রাজনীতি ছেড়ে মুড়ি ব্যবসায় নামার খবরে বিশ্লেষকরা বলেছেন, বিএনপিতে আগে থেকেই দলের নেতাদের মতামতের মূল্য নেই। ফলে রাজনীতি বাদ দিয়ে নেতারা মুড়ি ব্যবসায় নামলেই ভালো। যে দলের না আছে ভবিষ্যৎ, না আছে বর্তমান সে দলে রাজনীতি করার চেয়ে নেতাদের মুড়ি ব্যবসায় নামার সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি