শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 2 » জব্দ হচ্ছে মাহমুদুর রহমান মান্নার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট



জব্দ হচ্ছে মাহমুদুর রহমান মান্নার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
06.06.2021

নিউজ ডেস্ক: নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং তার নামে থাকা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত যাবতীয় লেনদেনের তথ্য চেয়ে ৬ জুন মান্নাকে নোটিশ দেয় এনবিআর। সাত দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এ তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে গোপন সূত্রের বরাতে জানা যায়, মাহমুদুর রহমান মান্না গার্মেন্টস ব্যবসার অন্তরালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার আগে ও পরে অনেকবার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। যা স্পষ্টত সন্দেহের সৃষ্টি করে এনবিআরের।

তথ্যসূত্র বলছে, মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রতিষ্ঠানের নামে সঞ্চয়পত্র বা অন্য কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগ বা ঋণ থাকলে সেই তথ্যও পাঠাতে বলেছে এনবিআর। সাধারণত সম্ভাব্য কর ফাঁকি উদ্ঘাটনে এনবিআর ব্যাংক হিসাব তলব করে থাকে। এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, মাহমুদুর রহমান মান্নার একক বা যৌথ নামে বা তার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো মেয়াদি আমানত হিসাব, সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব, বৈদেশিক মুদ্রা অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, লকার বা ভল্ট সুবিধা থাকলে ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে হালনাগাদ তথ্য দিতে হবে।

এদিকে বিএনপি সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপির প্রচার ও দলটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চুক্তিতে মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এই জন্য তিনি লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। বিশেষ করে দেশে চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারেক রহমানের কাছ থেকে মাহমুদুর রহমান মান্না একাধিকবার নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ সহযোগিতা নিয়েছেন। তবে এটি তিনি কিভাবে ব্যাংকে উপস্থাপন করেছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হওয়ায় এনবিআর পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, সঞ্চয়পত্র বা অন্য কোনো সেভিং ইনস্ট্রুমেন্টস, বিনিয়োগ প্রকল্প, আমানত প্রকল্প বা অন্য কোনো ধরণের বা নামে হিসাব পরিচালিত হলে সে তথ্যও পাঠাতে হবে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে। এসবের পাশাপাশি মাহমুদুর রহমান মান্না বা তার প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণের বিপরীতে রক্ষিত জামানতের তথ্যও পাঠাতে হবে এনবিআরের কাছে। তার প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ভিন্ন ধরণের লেনদেন হচ্ছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।

রাজস্ব বোর্ডের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, মাহমুদুর রহমান মান্না তার প্রতিষ্ঠানকে নিজের রাজনৈতিক কাজে অপব্যবহার করছেন যার প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। বিশেষ করে বিগত নির্বাচনের আগে তার প্রতিষ্ঠানে লন্ডন থেকে একাধিকবার অর্থ সহযোগিতা এসেছে। আর সরকারের চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য তিনি অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। যা এখন অনেকটা প্রমাণিত। এসব অস্বাভাবিক লেনদেনের জন্য মাহমুদুর রহমান মান্নার ব্যাংক হিসাব যেকোনো মুহূর্তে জব্দ হতে পারে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি