শুক্রবার ২৫ জুন ২০২১
  • প্রচ্ছদ » Lead 1 » আরো পাঁচ বছর কারাগারে থাকতে হবে খালেদা জিয়াকে



আরো পাঁচ বছর কারাগারে থাকতে হবে খালেদা জিয়াকে


বাংলা নিউজ ব্যাংক :
06.06.2021

নিউজ ডেস্ক : পরিবার ও দল ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম না হওয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তিতে দেরি হচ্ছে বলে বিএনপির রাজনীতিতে গুঞ্জন চাউর হয়েছে। পরিবার জামিনের পক্ষে মতামত দিলেও দলটির একটি অংশ অসুস্থতার দোহাই দিয়ে বিদেশ যাওয়ার পক্ষে আভাস দেয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে বলেও দলের অভ্যন্তরে চর্চা শুরু হয়েছে।

দুটি পক্ষের অভিমান, যুক্তির লড়াই এবং পরিস্থিতি অনুধাবন করার ব্যর্থতার কারণে বেগম জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করছে দলটির একটি অংশ। তবে করোনাভাইরাসের কারণে খালেদা জিয়ার সাজা শিথিল করে গুলশানের বাসায় প্রেরণ করা হলেও করোনার মহামারি কমলে ফের তার বহালকৃত সাজা পুনরায় উজ্জীবিত হতে পারে। ফলে পুনরায় কারাগারে গিয়ে বাকি কয়েকবছরের সাজা খাটতে হতে পারে খালেদা জিয়াকে। উক্ত বিষয়টিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বড় ঝামেলা হিসেবে মনে করছেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

তবে, ঝামেলা থাকলেও সকল ধরণের মত পার্থক্য দূর করে অচিরেই বেগম জিয়াকে মুক্ত করাটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও আপাতত সেই বিষয়ে জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেই মনে করছেন দলটির নেতারা। তবে ইগোর দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটা বন্ধ করা এবং ব্যক্তি স্বার্থ জলাঞ্জলি দিলে নেত্রীর মুক্তি সম্ভব বলে মনে করছে দলটির একজন সিনিয়র নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সেই সিনিয়র নেতার মতে, বেগম জিয়ার পরিবার চায়-জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় তিনি বিএনপির হাল ধরবেন। বিএনপি বেগম জিয়ার নেতৃত্ব ছাড়া রাজনীতিতে সুবিধা করতে পারবে না। বিএনপির পুনর্গঠন বেগম জিয়া ছাড়া পরিপূর্ণতা পাবে না। তাই জামিনের পক্ষে বেগম জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার এমন মতামত দিলে দলে বিভক্তি সৃষ্টি হয়ে যায়। অথচ বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা শামীম সাহেবের বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপিকে বিতর্কিত করেছেন। দ্বন্দ্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নেত্রী।

এদিকে দলের একাধিক সিনিয়র নেতারা অতি উৎসাহী হয়ে বেগম জিয়াকে বিদেশ পাঠিয়ে দেবার বিষয়ে অভিমত দিলে বিএনপির রাজনীতিতে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। অথচ লন্ডন থেকে খালেদা জিয়াকে বিদেশ প্রেরণের বিষয়ে স্পষ্ট কোন মন্তব্য বা বক্তব্য আসেনি বলে জানা গেছে। অনেকেই হয়ত অতিভক্তি কিংবা অতি শ্রদ্ধার অংশ থেকেই পরিণতি অনুমান না করেই বিদেশ প্রেরণের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পরিবারের সঙ্গে কোন মতামত না নিয়েই বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে আকার-ইঙ্গিতে প্যারোলের বিষয়টি সামনে চলে আসলে দলের অভ্যন্তরে কোন্দল ও অবিশ্বাস স্পষ্ট হয়েছে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে জর্জরিত হচ্ছেন বেগম জিয়া। অনেকেই বেগম জিয়াকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার রাজনীতির আভাস পাচ্ছেন বলেও গুঞ্জন বাড়ছে দলটির রাজনীতিতে।



এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি